
কলকাতা: দলের নাম, প্রতীক ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে তাহলে কি আর কোনও ‘ভূমিকায়’ দেখা যাবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে? এই নিয়ে জল্পনা বাড়ার আগেই বড় ঘোষণা করেছেন মমতা। তিনি জানিয়ে দিলেন, নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবেন তাঁরা। এই মুহূর্তে কার্যত সর্বহারা মমতা যে দলের প্রার্থীকে নন্দীগ্রামে সমর্থনের ঘোষণা করলেন, সেই কংগ্রেসের জমি কতটা শক্ত নন্দীগ্রামে? কয়েকমাস আগে নন্দীগ্রামে কেমন ফল করেছিল কংগ্রেস?
ছাব্বিশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের ফল-
রাজনীতির কারবারিদের মতে, বাংলায় কংগ্রেস এখন নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গাতেই সীমাবদ্ধ। রাজ্যজুড়ে তাদের সেই সংগঠন নেই। ছাব্বিশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে সেই ছবিই ধরা পড়েছিল। কয়েকমাস আগে বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের টিকিটে লড়েছিলেন পবিত্র কর। মূলত এই দুই দলের মধ্যেই লড়াই দেখেছিল নন্দীগ্রাম।
ভোটের ফল বলছে, নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী শেখ জারিয়াতুল হোসেন কোনও প্রভাবই ফেলতে পারেননি। তিনি মোট ভোট পেয়েছিলেন ৭৯৪টি। যা প্রদত্ত ভোটের ০.৩১ শতাংশ। ৭৯৪টি ভোটের মধ্যে পোস্টাল ভোট পেয়েছিলেন ৭টি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ছাব্বিশের নির্বাচনে NOTA-য় ভোট পড়েছিল ৯১৯টি।
এবারের উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে মিলন প্রধানকে। মমতার দলের প্রার্থী এদিন মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর জল্পনা বাড়ে, তাহলে কি ফাঁকা মাঠে বড় জয় পেতে চলেছে বিজেপি? তখনই মমতা ঘোষণা করলেন, তিনি কংগ্রেস প্রার্থীকে নন্দীগ্রামে সমর্থন করবেন। কয়েকমাস আগে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৬৩৬ ভোট। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর থেকে ১০ হাজারের মতো ভোট কম পেয়েছিলেন। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি মমতার সমর্থন পেয়ে কংগ্রেস প্রার্থীর ভোট এবার বাড়বে?
কেউ কেউ বলছেন, নন্দীগ্রামে নিজের ‘জমি’ কংগ্রেসকে দিচ্ছেন মমতা। এ যেন কাক তার বাসায় কোকিলের ডিম রাখতে দিল। কিন্তু, নন্দীগ্রামে এখন তৃণমূলের জমি কতটা রয়েছে, সেই প্রশ্ন উঠছে। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, বিধানসভায় ভরাডুবির পর তৃণমূলের সংগঠন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। দুই শিবিরে ভাগ হয়েছে। আবার কমিশন দলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করেছে। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সংগঠনের হাল এখন বেহাল। আর নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের জমি কতটা ‘শক্ত’ তা কয়েকমাস আগেই ভোটের ফলে স্পষ্ট হয়েছে। ফলে মমতার ঘোষণায় কংগ্রেস প্রার্থী আদৌ কতটা লাভ হবে, সেই নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে।