
কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মমতার হাত ছেড়ে এনসিপিআইতে (NCPI) যোগ দিয়েছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Banerjee)। তবে, স্ত্রী তথা বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে। যখন দিল্লিতে গিয়ে বারবার এনডিএ-র (NDA) বৈঠকে যোগ দিয়েছেন সুদীপ, মমতা তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন, সেইসময় মমতার সঙ্গে রাস্তায় নেমে মিছিলে হেঁটেছেন নয়না। এমনকী, যখন মমতা তৃণমূল থেকে বেরিয়ে একের পর এক বিধায়ক ঋত শিবির অর্থাৎ ডেমোক্রেটিক তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন, তখনও নয়না থেকে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এবার সেই নয়না (Nayna Banerjee) কি মমতার হাত ছাড়তে চলেছেন? সম্প্রতি, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
গত মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসময় সঙ্গে ছিলেন নয়নাও। এমনটাই দাবি করেছেন সুদীপ। কী কথা হয় অমিত শাহের সঙ্গে নয়নার? এই বিষয়ে সুদীপ বলেন, “সৌগত রায় ও তথাগত রায় তো একই বাড়িতে থাকেন। তাঁরা দুইজন তো দুইরকম করেন। আজ এরকম ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে। আর আমার স্ত্রীর কাজের পরিধি হল চৌরঙ্গী বিধানসভা। তার বাইরে নয়। এবার গত মাসে দুইবার মোদীজীর সঙ্গে ও দুইবার অমিত শাহের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলেছি। একবার আমার সঙ্গে আমার স্ত্রীও ছিলেন। অমিত শাহ ওঁকে জিজ্ঞাসাও করেছেন যে এবার সফল হতে কতটা কষ্ট করতে হয়েছে তাঁকে? তখন নয়না বলল যে হ্যাঁ অন্য বারের থেকে এবার বেশি লড়ে জিততে হয়েছে।”
তৃণমূলের প্রতি একটা আলাদা টান রয়েছে নয়নার। এমনটাই দাবি করেছেন সুদীপ। বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ওঁর একটা ব্যক্তিগত বোধ আছে, ও কখনও কংগ্রেস থেকে বিধায়ক হয়নি। এই যে পাঁচ বার জেতা পাঁচবারই তৃণমূলের থেকে জেতা। সুতরাং সেই পরিবেশটার সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছে। আমি এই নিয়ে কোনও বাধ্যবাধকতা দিইনি।”
সুদীপের এই মন্তব্যের পর থেকে নয়নাকে নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন উঠছে, এবার কি তাহলে নয়নাও মমতার হাত ছেড়ে অন্য শিবিরে নাম লেখাবেন? যদিও এই বিষয়ে নয়নার তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “আমার খাওয়া-শোয়ার সময় নেই। আর এদের নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করার সময় রয়েছে? যাঁর যেখানে ইচ্ছে যাবে। দেখা করবেন, সাক্ষাৎ করবেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পরিণামই ছিল। আমি অত্যন্ত খুশি। আমরা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছি। তৃণমূল যত তাড়াতাড়ি উঠে যায়, তত মঙ্গল পশ্চিমবঙ্গের।”