
নিউটাউন: গত শনিবার নিউটাউন থেকে উদ্ধার হয় একটি ট্রলি। সেটা তুললে দেখা যায়, তার থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে বেরচ্ছে রক্ত। সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের হাতে। টেকনো সিটি থানার পুলিশ সেই খুনের ঘটনার তদন্ত করছে। মঙ্গলবার ওই বৃদ্ধ খুনের ঘটনায় অভিযুক্তকে বেলঘরিয়ায় নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণও করেছে পুলিশ। এদিকে, খুনের মোটিফ নিয়ে বেশ কিছু তথ্য এসেছে তদন্তকারীদের হাতে।
যাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছিল ওই ট্রলিব্যাগ থেকে, তিনি ছিলেন বেলঘরিয়ার বাসিন্দা। সুবোধ সরকার নামে ওই ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় সৌম্যকান্তি জানা নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিন তাঁকে বেলঘরিয়ার ওল্ড নিমতা রোডের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণ করে টেকনো সিটি থানার পুলিশ। ওই বাড়িতেই থাকতেন সৌম্যকান্তি। সুবোধ সরকারও ছিলেন ওই অঞ্চলের বাসিন্দা।
পুলিশ জানতে পেরেছে, কিছুদিন আগে সৌম্যকান্তি জানা সুবোধ সরকারের ফোনের ইউপিআই থেকে তাঁর অজান্তে ৭ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করে নিজের অ্যাকাউন্টে নিয়ে নিয়েছিলেন। এই বিষয়টি সুবোধ সরকার জানতে পারেন ও সৌম্যকান্তিকে বারবার টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বলতে থাকেন।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, যেদিন সুবোধ সরকারের মৃতদেহ পাওয়া যায়, তার আগের দিন তিনি সৌম্যকান্তির বাড়িতে গিয়েছিলেন। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ। সেই সময় সৌম্যকান্তি জানার সঙ্গে বৃদ্ধের হাতাহাতি হয় বলে দাবি পুলিশের।
হাতাহাতি করার সময় সুবোধ সরকারের মাথা কাচের আয়নায় লেগে রক্তক্ষরণ হয় মাথা থেকে। এরপরই সৌম্যকান্তি মৃত্যু নিশ্চিত করতে সুবোধ সরকারের প্রথমে শ্বাসরোধ করে ও পরে গামছা মুখে ঢুকিয়ে দেয়। তারপর বৃদ্ধের মৃত্যু নিশ্চিত হলে মৃতদেহ ট্রলিব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিউটাউনে ফেলে দিয়ে আসেন সৌম্যকান্তি। এখনও পর্যন্ত এই তথ্যই জানতে পেরেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মী সৌম্যকান্তি, আর সেই ব্যাঙ্কেই টাকা রেখেছিলেন সুবোধ সরকার।