
কলকাতা: সোনার গয়না বা মূল্যবান সামগ্রী রাখার সবথেকে নিরাপদ জায়গা হিসেবে ব্যাঙ্ককেই বেছে নেন সাধারণ মানুষ। শুধু গয়না নয়, গুরুত্বপূর্ণ নথিও অনেকেই রাখেন লকারে। সল্টলেকের বাসিন্দা মমতা সিঙ্ঘি নিরাপদ মনে করেই রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের লকারে রেখেছিলেন মূল্যবান গয়না। মাসকয়েক আগে শেষবার ওই লকার খুলেছিলেন তিনি। গত অগস্ট মাসে সেই লকার খুলতে গিয়ে চোখ কপালে। গয়না কই!
বিধাননগরের কর্নাটকা ব্যাঙ্কের লকার থেকে গয়না উধাও হয়ে গিয়েছে গয়না, এই অভিযোগে এফআইআর দায়ের করলেন সল্টলেকের বাসিন্দা মমতা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ও তাঁর পুত্রবধূ মিসেস ঋষিকা আগারওয়ালের সঙ্গে যৌথ নামে রয়েছে লকারটি। গত ২৪ অগস্ট লকার খুলে তাঁর পুত্রবধূ ঋষিকা দেখেন গয়না নেই।
গত ২৪ অগস্ট বিধাননগর পূর্ব থানায় দেড় কোটি টাকার সোনার গয়না উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন মমতা সিঙ্ঘি। তিনি জানান, ২০২৫-এর ১৮ ডিসেম্বর তিনি ওই লকারটি খুলেছিলেন। তারপর থেকে তিনি বা তাঁর পুত্রবধূ কেউই খোলেননি। এরপর ২৪ অগস্ট দেখেন সব উধাও। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষও এই ঘটনার কথা মৌখিক ভাবে স্বীকার করে নিয়েছে। ক্যামেরার সামনে তারা মুখ খুলতে রাজি হননি কোনও আধিকারিক।
সিঙ্ঘি পরিবারের দাবি, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে গত এক মাসে তাঁদের সেভাবে কোনও সহযোগিতা করা হয়নি। পুরো ঘটনার তদন্ত করছে বিধাননগর পুলিশ। উল্লেখ্য, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI)-এর নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাঙ্কের অবহেলায় গয়না খোয়া গেলে, ব্যাঙ্ক থেকে চুরি-ডাকাতি হলে, আগুন লেগে বা বিল্ডিং ভেঙে নষ্ট হয়ে গেলে বা কোনও কর্মীর কারণে লকার থেকে জিনিসপত্র হারালে ব্যাঙ্ক সর্বোচ্চ লকারের বার্ষিক ভাড়ার ১০০ গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।