Under adjudication: ৬০ লাখের মধ্যে ৩৭ লাখ ‘অমীমাংসিত’-ই মুসলিম প্রভাবিত ৬ জেলা থেকে, অঙ্ক খুঁজছে সবাই

SIR in Bengal: অমীমাংসিতের তালিকা বেছে বেছে তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও। তিনি বলছেন, "তথ্য পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেখানে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা একটু বেশি, সেখানে টার্গেট করে অ্যাডজুডিকেশন তকমা লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জীবিতকে মৃত দেখাচ্ছে। মতুয়াদেরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলছে এই নির্বাচন কমিশন।"

Under adjudication: ৬০ লাখের মধ্যে ৩৭ লাখ অমীমাংসিত-ই মুসলিম প্রভাবিত ৬ জেলা থেকে, অঙ্ক খুঁজছে সবাই
ফাইল ফোটোImage Credit source: TV9 Bangla

Mar 04, 2026 | 10:48 PM

কলকাতা: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘোষণা হল। কিন্তু, ৬০ লক্ষ মানুষ জানতে পারলেন না, তাঁরা চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাবেন কি না। অমীমাংসিত তালিকায় ঝুলে রয়েছেন তাঁরা। আর এই ৬০ লক্ষ অমীমাংসিতের তালিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। বেছে বেছে অমীমাংসিতের তালিকায় নাম রাখা হয়েছে বলে সরব হয়েছে তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম। তালিকায় নজর দিলে দেখা যাচ্ছে, ৬০ লক্ষের মধ্যে ৩৭ লক্ষ নাম শুধু ৬টি জেলাতেই। আর এই নিয়েই বাড়ছে রাজনৈতিক তরজা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মুসলিম প্রভাবিত ৬ জেলায় ৩৭ লক্ষ নাম অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে। মুর্শিদাবাদে অমীমাংসিতের তালিকায় রয়েছে ১১ লক্ষ ১ হাজার ১৪৫ জনের নাম। মালদহে সেই সংখ্যাটা ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ১২৭। আর উত্তর দিনাজপুরে অমীমাংসিতের তালিকায় রয়েছে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৪১ জনের নাম। এছাড়া নদিয়া জেলায় অমীমাংসিতের তালিকায় ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯৪০ জনের নাম রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় অমীমাংসিতের তালিকায় রয়েছে ৫ লক্ষ ৯১ হাজার ২৫২ জনের নাম। আর দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সেই সংখ্যাটা ৫ লক্ষ ২২ হাজার ৪২। সবমিলিয়ে মুসলিম প্রভাবিত এই ৬ জেলায় অমীমাংসিতের তালিকায় রয়েছে ৩৭ লক্ষ ৯০ হাজার ৮৪৭ জনের নাম।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই অমীমাংসিতদের নাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কংগ্রেসের মৌসম নুর। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বেছে বেছে অমীমাংসিতের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরে অমীমাংসিত তালিকায় এত নাম কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন। অমীমাংসিতদের তালিকা নিষ্পত্তি না করে ভোটগ্রহণ হলে তা বয়কটের জন্য কংগ্রেস নেতৃত্বকে আবেদন জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যকে কার্যত সমর্থন করে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী এদিন বলেন, “আগে ভোটার লিস্ট, তারপর নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা উচিত। তার জন্য প্রয়োজনে সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হোক।”

অমীমাংসিতের তালিকা নিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও বলছেন, “একেবারে রিলিজিয়ন এবং রিজিয়ন স্পেসিফিক। তার সঙ্গে মতুয়া, উদ্বাস্তু, আদিবাসী, অনগ্রসর শ্রেণি। নাম বাদ না দিলেও তাদের বেছে বেছে সংকটে ফেলা হয়েছে। কাদের অপদার্থতার জন্য এটা হল, সেটা কমিশন ও সিইও দফতর জানাক।” আবার সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বললেন, “নির্বাচন কমিশন পারল না। রাজ্য সরকার পারল না। অফিসারদের অপদার্থতায় এটা হয়েছে। এখন বিচারবিভাগ। হয় বৈধ না হলে অবৈধ। এটা নির্দিষ্ট করে তালিকা বের করতে হবে। তা না হলে ভোট করা যায় না। ৬০ লক্ষ মানুষ মাঝ রাস্তায় ঝুলে থাকবে, আর ভোট হবে, ওই ভোট কখনও বৈধতা পেতে পারে না।”

অমীমাংসিতের তালিকা বেছে বেছে তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও। তিনি বলছেন, “তথ্য পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেখানে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা একটু বেশি, সেখানে টার্গেট করে অ্যাডজুডিকেশন তকমা লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জীবিতকে মৃত দেখাচ্ছে। মতুয়াদেরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলছে এই নির্বাচন কমিশন।”

বিজেপি মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য অমীমাংসিতের তালিকা নিয়ে তৃণমূলকেই নিশানা করলেন। বললেন, “এই ৬০ লক্ষ মানুষকে বিচারাধীন বানাল কে? তৃণমূল কংগ্রেসই তো সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এটা করেছে। এখন কুমিরের কান্না কেঁদে লাভ নেই।”