
কলকাতা: ভোটে ভরাডুবি তৃণমূলের। এবার দলের সুপ্রিমোর সমালোচনা শোনা গেল এককালের মমতার ছায়া সঙ্গী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মুখে। সাফ বললেন, “হারের জন্য নেত্রীর দুর্বলতা কিছুটা দায়ী। আজও চলছে। বলছেন উঠে দাঁড়াও, সবাই খুব ভালো খেটেছে। শুনছি। আমি হলে বলতাম, এটা করো না। এখানে তো সাফল্যের গান নেই। ৪১ শতাংশ পেয়েছি আমরা। তাতে আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের তো ক্ষয় হয়েছে। তাড়াতাড়ি দিদির পরিবর্তে তাঁর উত্তরাধিকার খোঁজা। শিবসেনা বুঝেছে, স্টালিন বুঝেছে। আমরা জাতীয় দল বললেও আমরা তো জাতীয় কংগ্রেস নই।”
নিজেই টেনে আনলেন মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীর কথা। অভিষেকের নাম না করেও অকপটেই বললেন, “আমি মুকুল-শুভেন্দু সবাই চলে গেল এটা ভেবে খুব কষ্ট পাই। আজকে বর্তমান শাসকের যে কটা মুখ রয়েছে, তাঁর বেশিরভাগ মুখটাই তো আমাদের দলের প্রাক্তন সহকর্মীরা। তাঁদের আটকালো কে? একজনের জন্য সবাই চলে যাবে! শুধু একজন থাকবে! এখানে দিদির বোধহয় অন্ধ স্নেহ, অন্ধ ভালোবাসা কাজ করেছে।”
তীব্র সমালোচনার সুরে বলেন, “দক্ষিণী কায়দায় গাড়ির ওপর হাত নাড়ানো, ভাষার ব্যবহার। যেটা দিদির শোভা পায়,সেটা আমার শোভা পায় না। মমতার বিকল্প মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তার বিকল্প এখনও তৃণমূল তৈরি করতে পারেনি।” বলতে বলতেই বারবার দলের স্ট্র্য়াটেজি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ শোনা যায় পার্থর মুখে। ফিরে ফিরে আসে শওকত থেকে আরবুলের প্রসঙ্গও। তীব্র ক্ষোভের সুরেই বলেন, “শওকত মোল্লার জেতা সিট থেকে সরিয়ে দাও, আরাবুলকে ছেঁটে দাও। পার্থদা জেল খাটছে লোককে বলে দাও। ওনার সঙ্গে দেখা করা বন্ধ করে দাও। যে জেলা দেখতাম, শুয়ে পড়েছে তো। ঝাড়গ্রাম শূন্য, নদিয়া ৩, কোচবিহার প্রায় শূন্য। মুকুল থেকে শুরু হয়ছে, পার্থতে শেষ হয়েছে।”