
কলকাতা : তৃণমূলের আমলে অপরাধীদের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে বাংলা। বিজেপির সরকার এলে সব অপরাধীদের বেছে বেছে হিসেব নেওয়া হবে। ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলায় এবার ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর সঙ্গে ‘সবার হিসেবও’ হবে। অর্থাৎ মোদীর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, বাংলায় বিজেপির সরকার এলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। বাংলায় অপরাধীদের শাস্তি দেবে বিজেপি। একইসঙ্গে তাঁর আশ্বাস, বাংলায় এবার মহাজঙ্গলরাজ শেষ হবে। কাউন্টডাউনও শুরু হয়ে গিয়েছে। অপরাধীদের একটাই জায়গা হবে জেল।
শনিবার ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে বাংলাতেই বক্তৃতা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভোট আবহে বাংলায় এসে আবারও একবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মোদী। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল সন্দেশখালি, আরজিকর ও কসবা কাণ্ডের প্রসঙ্গ। নারী সুরক্ষা নিয়ে তৃণমূলকে তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নির্মম সরকার ধর্ষকদের আশ্রয় দেয়। অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করে। তৃণমূল কীভাবে প্রকাশ্যে অপরাধীদের সঙ্গে থাকে, সকলেই দেখেছে। সন্দেশখালি, আরজিকরের ঘটনা ভোলেনি বাংলার মানুষ। অপরাধীদের আড়াল করা হয়েছে। সেই কারণেই বাংলার মেয়েরা আজ বিপন্ন। তৃণমূল সরকারের আমলে বাংলায় মেয়েরা সুরক্ষিত নয়। এখনও বাড়ির মেয়েদের বলতে হয়, সন্ধে নামার আগে বাড়ি ফিরে এস।” প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই পরিস্থিতি বদলে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দাবি, বাংলাকে অসুরক্ষিত করেছে তৃণমূল। ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি বলেন,”ধমকানোই তৃণমূলের রাজনীতি। আমি তৃণমূলকে মনে করাতে চাই, ওদের গুন্ডামির দিন এবার শেষ হতে চলেছে। তৃণমূল সরকারের বিদায়ের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে।” এরপরই মোদীর হুঙ্কার, “বিজেপি সরকার তৈরি হওয়ার পরে একদিকে আমরা সবকা সাথ, সবকা বিকাশের মন্ত্র নিয়ে চলব। আরেকদিকে সবকা হিসাব লিয়া যায়গা।” অর্থাৎ, বিজেপি সরকার গঠন করলে একদিকে যেমন উন্নয়ন হবে, অন্য দিকে সব কিছুর হিসাব হবে। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন,বাংলায় আইনের শাসন হবে। অপরাধীদের একটাই জায়গা হবে জেল। একইসঙ্গে এদিনের সভা থেকে নতুন বাংলা গড়ার ডাক দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।
উল্লেখ্য, ভোট আবহে ৫ বছর পর ফের ব্রিগেডে মোদীর মেগা সভা ছিল আজ। ব্রিগেডের মঞ্চে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। দক্ষিণেশ্বরের থিমে গড়ে তোলা হয়েছে মঞ্চ। প্রথমে ব্রিগেডের সরকারি মঞ্চ থেকে বাংলার জন্য ১৮ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস এবং উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর রাজনৈতিক সভা থেকে একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মোদী।