
কলকাতা: সন্দেশখালি নিয়ে যখন অস্থিরতা তুঙ্গে, তারই মধ্যে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বারাসতে সভা করার কথা আগেই জানানো হয়েছে। আগামী ৬ মার্চ রাজ্যে আসার কথা প্রধানমন্ত্রী। গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, সন্দেশখালির ‘নির্যাতিতা’দের সঙ্গে দেখা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সভা মঞ্চেও হাজির থাকতে পারেন ওই গ্রামের মহিলারা। ধর্ষণ সহ একাধিক অভিযোগে সম্প্রতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সন্দেশখালি। দিনের পর দিন বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার চলত, এমন অভিযোগও সামনে আসে। কখনও রাজ্যপালের কাছে, কখনও মহিলা কমিশন বা এসসি-এসটি কমিশনের কাছে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মহিলারা। এবার তাঁদের মুখোমুখি হতে পারেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যদি তাঁরা দেখা করতে চান, তাহলে অবশ্যই আমরা দেখা করাব। তাঁদের ইচ্ছের ওপর নির্ভর করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মহিলারা তৃণমূল নেতাদের হাতে শোসিত হচ্ছে, অত্যাচারিত হচ্ছে। তৃণমূল হাত থেকে তাঁদের মুক্তি দিতেই প্রধানমন্ত্রী আসছেন রাজ্যে।’ এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে যাঁদের নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন, ওদের নিয়ে আগে কেন উদ্যোগ নেন নি?’
সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা ঘনিষ্ঠ শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন গ্রামবাসীরা। অভিযোগ ওঠে শাহজাহান ঘনিষ্ঠ উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরার বিরুদ্ধে। প্রথমে উত্তম ও পরে শিবুকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। শিবুর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে গণধর্ষণের মামলা। তবে শাহজাহানের খোঁজ পাওয়া যায়নি এখনও। গোটা এলাকায় কার্যত আগুন জ্বলছে, কখনও কখনও সেটা বিস্ফোরণের আকার নিচ্ছে। বিজেপি নেতারা একাধিকবার সন্দেশখালিতে ঢুকতে গিয়ে বাধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেবেন, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।