
কলকাতা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়ির সামনে থেকে সরল পুলিশ। রবিবার হঠাৎ কালীঘাটে (Kalighat TMC) তৃণমূল নেত্রীর বাড়ির সামনে পুলিশকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হয়। এরপরই মমতা ফেসবুকে লাইভ করে অভিযোগ করেন, তাঁকে বারুইপুরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে হাউজ় অ্যারেস্ট বা নজরবন্দী করে রাখা হয়েছে। তবে, মধ্যরাতেই বদলে যায় কালীঘাটের ছবি।
বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। গতকাল দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় বারুইপুরে। গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় এক অভিযুক্তের। দোষীদের শাস্তির দাবিতে চলে দিনভর বিক্ষোভ। মৃত নাবালিকার বাবার সঙ্গে কথাও বলেন শুভেন্দু অধিকারী। সুবিচারের আশ্বাসও দেন।
এদিকে, রবিবার সন্ধের পর থেকে হঠাৎ করে কালীঘাটে পুলিশি তৎপরতা বাড়তে শুরু করে। মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আনে তৃণমূলের আইটি সেল। একে একে বাড়িতে পৌঁছতে শুরু করেন ‘কালীঘাট’ তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা। তাঁরা অভিযোগ তোলেন, বারুইপুরে যেতে দেওয়া হবে না বলেই পুলিশ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ঘিরে ফেলা হয়েছে।
এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করেন মমতা। দাবি করেন, বারুইপুরে নাবালিকার পরিবারের কাছে একাই যাবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু, তাঁর অভিযোগ নজরবন্দি রাখা হয়েছে তাঁকে। তাঁর বাড়ির সামনে রুটমার্চ হচ্ছে। প্রায় এক হাজার পুলিশ, সিআরপিএফ, আইবি, সিআইডি সবাই মিলে জমায়েত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় কালীঘাটের ছবি।
পুলিশ সরল
জানা গিয়েছে, রবিবার রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মমতার বাড়ির সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশবাহিনী। সোমবার সকালে দেখা গেল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর যে নিরাপত্তা, শুধুমাত্র সেইটুকুই রয়েছে।
উল্লেখ্য, বারুইপুরের ঘটনায় মৃত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৬ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে এক ব্যক্তিকে।