
কলকাতা : রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই অ্যাকশন মুডে বিজেপি সরকার। একের পর এক বড় পদক্ষেপ করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এবার প্রেসিডেন্সি জেলে (Presidency Jail) সার্জিক্যাল স্ট্রাইক শুভেন্দুর। জেলে বসেই অপরাধের নেটওয়ার্ক চালানো হচ্ছে। সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রেসিডেন্সে জেলে গোপনে অভিযান চালিয়ে ২৩টি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনায় সাসপেন্ড করা হয়েছে প্রেসিডেন্সির দুই কর্তাকে। কীভাবে আসামিদের কাছে স্মার্ট ফোন (Smart Phone Seized) এল, কাদের নামে সিম…গোটা ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, যাঁরা জেলবন্দিদের ফোন করে কথা বলেছেন, তাঁরাও জেলে যাবেন। অর্থাৎ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চাইছেন শুভেন্দু।
আজ নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই জেলে আসামিদের ফোন ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তিনি বলেন, “বন্দীদের আত্মীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়েছিলাম। প্রেসিডেন্সি জেলে প্রচুর মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হচ্ছে। স্মার্ট ফোন ব্যবহার করা হচ্ছে। জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অপরাধীদের একটা যোগসাজস তৈরি হয়েছে। গোটা ঘটনায় গত সরকারের সমর্থনও থাকতে পারে। আবার অবহেলাও থাকতে পারে। আমরা জানার পরে ডিজি সংশোধনাগার এন রমেশবাবুকে জানানো হয়। দেখা যায় অভিযোগ সত্যি। দক্ষিণ কলকাতার ডিসি এবং ডিজি সংশোধনাগারে যৌথ অভিযান চালিয়ে ফোনগুলি উদ্ধার করেন।”
এই বিষয়ে ডিজি জানান, খবর পেয়ে তাঁরা সারপ্রাইজ ভিজিট করেন প্রেসিডেন্সিতে। আগের থেকে প্রেসিডেন্সিতে কিছু জানানো হয়নি। ২৩টি মোবাইল উদ্ধার করেছি। এবার কেস করা হবে। কীভাবে, কোথা থেকে আসল এই মোবাইগুলি, তা তদন্তে করে দেখা হবে। ডিজির বক্তব্যের পরই শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
ঘটনার পর সব জেলকর্তৃপক্ষকে সাবধান ও সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন,”যত সংশোধনাগার রয়েছে, সেই কর্তৃপক্ষকে ও আসামিদের যাঁরা ফোন দিচ্ছেন তাঁদের সাবধান করতে চাই এই জিনিস আজ থেকে বন্ধ। দমদম সেন্ট্রাল জেল থেকে বহরমপুর সেন্ট্রাল জেল, এরকম একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আমরা বলে দিলাম এটাই শেষ। এই মোবাইলগুলি উদ্ধার করে সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে ইতিমধ্যেই ওই বন্দীদের আলাদা সেলে সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। সন্দেশখালিতে কুখ্যাত দুষ্কৃতী শাহজাহান-সহ যাঁরা জেলে বসে নেটওয়ার্ক চালাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কারা কর্তৃপক্ষকে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের সাহায্যে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হচ্ছে।” একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, যাঁরা জেলবন্দিদের ফোন করে কথা বলেছেন, তাঁরাও জেলে যাবেন। কাউকে রেয়াত করা হবে না। সিআইডি তদন্ত করে সব অপরাধীদের চিহ্নিত করে হেফাজতে নেওয়া হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছেন।