
কলকাতা: আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিকে আমূল পরিবর্তন। এবার থেকে প্রাথমিকে এক একটি ক্লাসের দায়িত্ব এক একজন শিক্ষকের। ওই শিক্ষকই নির্দিষ্ট ক্লাসের সমস্ত বিষয় পড়াবেন। জানালেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। শুধু তাই নয়, শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্টও নির্ভর করবে সেই ক্লাসের পড়ুয়াদের উন্নতির ওপর।
স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন বলেন, “আমরা চর্চা করে, আলোচনা করে, যে বিষয়গুলো দেখা গিয়েছে, যদি আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব ফিক্সড হয়ে যায়, তাহলে সেই কাজের ওপর নিষ্ঠাও বেড়ে যায়।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বলেছেন, আসলে স্কুল শিক্ষাঙ্গনের হারানো গৌরবই পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হল পড়ুয়া ও শিক্ষকের মধ্যে মেলবন্ধন সুদৃঢ় করা এবং শিক্ষার মান উন্নত করা। এক জন শিক্ষক পুরো বছর ধরে একটি ক্লাসের দায়িত্ব সামলালে পড়ুয়াদের দুর্বলতা ও সামর্থ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন, যা তাদের সামগ্রিক বিকাশে সাহায্য করবে। শুধু পাঠদানের পদ্ধতিতেই পরিবর্তন আসছে না, শিক্ষকদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়াতেও আনা হচ্ছে বড় রদবদল।
রাজ্যের এই সিদ্ধান্তে শিক্ষাবিদ কাজী মাসুম আখতার বলেন, “আমি বলতে পারি, এর থেকে বড় পদক্ষেপ হতে পারে না। প্রাথমিক শিক্ষাই শিকড়। প্রত্যেক ক্লাসের এমন এক শিক্ষক থাকবেন, যিনিই দায়িত্ব নেবেন। তিনি নিজের ছাত্রদের অত্যন্ত যত্ন করে তৈরি করবেন। ”
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বলেন, “প্রাথমিকে এক জন শিক্ষককে দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করার চেষ্টা চলছে। এখানে উত্তরণের কোনও জায়গা আমি দেখতে পাচ্ছি না। আমাদের রাজ্যে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা ভীষণই অপ্রতুল। স্কুল ধুকছে। এক ক্লাসে এক শিক্ষক। তৃতীয় শ্রেণি থেকে বিজ্ঞানের বিষয়গুলো আস্তে আস্তে নিয়ে আসা হয়।” তাঁর মতে, “সেক্ষেত্রে একজন শিক্ষকই ল্যাঙ্গুয়েজ পড়াবেন, বিজ্ঞান পড়াবেন, ইতিহাস-ভূগোলের পাশাপাশি অঙ্কও কষাবেন! আমি শুনিনি, এরকম মডেল সাকসেসফুল হয়েছে।”