
কলকাতা: তৃণমূল কার দখলে থাকবে? তা নিয়ে লড়াই জারি রয়েছে কালীঘাট তৃণমূল আর ঋতব্রত তৃণমূলের। এরই মধ্যে এবার তৃণমূলের গণেশ পুজোরও ‘দখল’ নিল ঋত-তৃণমূল। কলকাতার মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবনে জাঁকজমক করে পুজো করল তারা। আর এই পুজোর মূল উদ্যোক্তা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। পুজোর পর পাত পেড়ে ভোগ খাওয়ানো হল ১০০০ জনের বেশি লোককে।
আগে তৃণমূল ভবনে সব পুজো করতেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি এখনও কালীঘাট শিবিরে। ফলে বিদ্রোহী শিবিরের পুজোয় এদিন অন্য পুরোহিত দেখা গেল। পুজোয় জাঁকজমকও ছিল চোখে পড়ার মতো। আগে পুজো হলেও এমন ভোগ খাওয়ানোর ব্যবস্থা ছিল না। পাত পেড়ে তৃণমূল ভবনে ভোগ খাওয়ার আয়োজন এই প্রথম।
এদিন ভোগ খাওয়ানো হল আশপাশের মানুষ এবং পথচারীদের। ভোগ খাওয়ানোর জন্য ক্যাটারারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ভোগে ছিল খিচুড়ি, আলুর দম, ছ্যাঁচড়া, চাটনি, পাপড়, পায়েস, সন্দেশ। সব মিলিয়ে ১২০০-১৩০০ লোককে ভোগ খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়।
তৃণমূলের বেশিরভাগ বিধায়ক এখন ঋতব্রত শিবিরে। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রও তার মধ্যে একজন। এদিনের পুজোর প্রধান আয়োজক তিনি। ‘কালারফুল’ মেজাজেই তৃণমূল ভবনে দেখা গেল তাঁকে। পুজোর আয়োজনের ফাঁকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মদন বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো আমাদের কর্মী নন, তিনি আমাদের নেত্রী। যদিও তাঁর নেতৃত্বে গত ১৫ বছরে ক্ষমতায় তিনি তাঁর দু-চারজন ডান হাত, বাম হাত ছাড়া আর ব্যক্তিগত যাঁদের মনে করেন, তাঁদের ছাড়া কারও দিকে কখনও ঘুরেও তাকাননি। দু-তিনটে নাম ঘোরাফেরা করত।”
নন্দীগ্রামে মমতাকে প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল ঋত-তৃণমূল। মমতা অবশ্য প্রার্থী হননি। এই নিয়ে মদন বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন দাঁড়াননি, সেটা বলার মতো ঔদ্ধত্য আমার নেই। তিনি তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। সাতবারের সাংসদ। আমরা তাঁকে প্রার্থী হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলাম।”