
ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, সব্যসাচী দত্ত ক্রমেই হয়ে উঠেছেন দাপুটে নেতা। বিধাননগর, নিউটাউন, রাজারহাট অঞ্চলে সব্যসাচীর দাপটের কথা সবারই জানা। মেয়র থেকে বিধায়ক- একাধিক পদ সামলেছেন তিনি। তৃণমূলের অন্যতম ভরসার নাম সব্যসাচী। তবে বছর কয়েক আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু কম সময়ের মধ্যেই তাঁর মোহভঙ্গ হয়। ফিরে আসেন তৃণমূলে। বর্তমানে তিনি বিধাননগর পুরনিগমের চেয়ারপার্সন তিনি।
১৯৯০ সাল থেকে তৃণমূল করছেন সব্যসাচী দত্ত। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার অনেক আগে, ২০০০ সালে প্রথমবার কাউন্সিলর হন তিনি। ২০০৫ ও ২০১০ সালেও পুরভোটে নির্বাচিত হন সব্যসাচী। ২০১১ সালে তৃণমূল যে বার প্রথম ক্ষমতায় এল, সেবারই রাজারহাট-নিউ টাউনের বিধায়ক হন সব্যসাচী দত্ত। ২০১৫ সালে যখন কয়েকটি পুরসভা মিলে বিধাননগর পুরনিগম তৈরি হয়, তখন সেখানে প্রথম মেয়র হন সব্যসাচী। ২০১৬-তেও ফের বিধায়ক হন তিনি।
কমার্সের ছাত্র ছিলেন। উমেশ চন্দ্র কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক পাশ করেছেন। এরপর সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ থেকে আইনের ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে বিধানসভা নির্বাচনে সব্যসাচী দত্ত লড়ছেন বারাসত থেকে।
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ২০২০-২১ সালে সব্যসাচীর আয় ছিল ৩১ লক্ষ ৫৫ হাজার ২০০ টাকা। ২০২১-২২ সালে তাঁর আয় বেড়ে হয় ১ কোটি ৬ লক্ষ ১০ হাজার ৫৪০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে সেই আয় কমে ৭৮ লক্ষ ৭৮ হাজার ৭৬০ টাকা হয়। এরপরে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে আয় ছিল ৬১ লক্ষ ২৭ হাজার ৩৫০ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সব্যসাচী দত্তের আয় কমে দাঁড়ায় ১৫ লক্ষ ৩২ হাজার ৮৩০ টাকা।
তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্তের ২০২০-২১ সালে আয় ছিল ৪৭ লক্ষ ২৬ হাজার ৭২০ টাকা। ২০২১-২২ সালে তাঁর আয় ছিল ৪৪ লক্ষ ১১ হাজার ৭৫০ টাকা। ২০২২-২৩ সালে তাঁর আয় ছিল ৬৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ৪২০ টাকা। ২০২৩-২৪ সালে আয় কমে হয় ৩৪ লক্ষ ৬৯০ টাকা। ২০২৪-২৫ সালে সব্যসাচী দত্তের স্ত্রীর আয় ছিল ৩৮ লক্ষ ৭২ হাজার ১৯০ টাকা।
সব্য়সাচী দত্তের নামে কোনও পুলিশি মামলা নেই।
সব্য়সাচী দত্তের হাতে নগদ রয়েছে মাত্র ১৬ হাজার ৭০৬ টাকা। তবে তাঁর স্ত্রীর হাতে নগদ রয়েছে ৮০ হাজার ৯৩৯ টাকা।
সব্য়সাচী দত্তের নামে দুটি ফিক্সড ডিপোজিট আছে ব্যাঙ্কে, একটি ১১ লক্ষ ৬৯ হাজার ১৯৩ টাকার এবং আরেকটি ১৮ লক্ষ ৯ হাজার ১৯৪ টাকার। একাধিক সেভিং অ্যাকাউন্টে রয়েছে তাঁর। একটিতে ৫ লক্ষ ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা আছে, আরেকটিতে ২৫ হাজার ৬৩১ টাকা আছে। এছাড়াও আরেকটি অ্যাকাউন্টে ৮ লক্ষ ৩০ হাজার ৪৮৭ টাকা আছে।
সব্যসাচী দত্তের স্ত্রীর নামেও একাধিক ফিক্সড ডিপোজিট আছে। ৮২ লক্ষ ৫৪ হাজার ৯৫৩ টাকার একটি ফিক্সড ডিপোজিট আছে, আরেকটি ৩১ লক্ষ ২৮ হাজার ৬৮৫ টাকার। এছাড়া ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার এবং ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮৫ টাকার এফডি আছে।
সব্যসাচী দত্তের স্ত্রীর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৫৪ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬১৪ টাকা আছে। আরেকটি অ্যাকাউন্টে ৭ লক্ষ ৩৬ হাজার ৩৫১ টাকা, অপর একটি অ্যাকাউন্টে ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা আছে। পোস্ট অফিসে ১০ হাজার ১২৮ টাকা জমা আছে।
সব্যসাচী দত্তের মিউচুয়াল ফান্ডে ৩৫ লক্ষ টাকা আছে। এছাড়া ২ কোটি ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৪৪৭ টাকা এবং ৫ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকার শেয়ার আছে।
সব্য়সাচী দত্তের স্ত্রীর নামেও মিউচুয়াল ফান্ডে একাধিক বিনিয়োগ আছে। একটি ২৫ লক্ষ টাকার এবং আরেকটি ৩৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে। ব্লু চিপে বিনিয়োগ আছে ৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার। এছাড়া শেয়ার মার্কেটেও বিপুল বিনিয়োগ আছে সব্যসাচী দত্তের স্ত্রীর।
সব্যসাচী দত্তের ২৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ১১ টাকার লাইফ ইন্সুরেন্স আছে। তাঁর স্ত্রীরও একই অঙ্কের লাইফ ইন্সুরেন্স আছে। এছাড়া এলআইসি-তেও বিনিয়োগ আছে দম্পতির।
সব্যসাচী দত্ত ১ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছেন একটি বিল্ডারকে। সব্যসাচীর স্ত্রী আবার তাঁকেই ঋণ দিয়েছেন ৭৪ লক্ষ টাকার।
সব্যসাচী দত্তের তিনটি গাড়ি আছে। একটি টয়োটা ফরচুনার গাড়ি, যার দাম ১৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩০০ টাকা। স্করপিও গাড়ি আছে, যার দাম ১৯ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯৭৮ টাকা। এছাড়া একটি অডি গাড়ি আছে, যার দাম ২৭ লক্ষ ৪ হাজার ৬৯ টাকা।
সব্যসাচী দত্তের কাছে ২৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকার সোনা আছে। তাঁর স্ত্রীর কাছে ৬৫ লক্ষ ১ হাজার ৬০৮ টাকার সোনা আছে।
সব্যসাচী দত্তের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৫ কোটি ৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৮৯ টাকা। তাঁর স্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পত্তি ৩ কোটি ৯০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৮৭২ টাকা।
সব্যসাচী দত্তের নামে কোনও কৃষিজমি না থাকলেও, তাঁর স্ত্রীর নামে কল্যাণীতে একটি জমি আছে, যা কেনার সময় বাজারমূল্য ছিল ৩২ লক্ষ টাকা। বর্তমান মূল্য ৩৫ লক্ষ টাকা।
সব্যসাচী দত্তের নামে রাজারহাটে একটি ফ্ল্য়াট আছে। যা কেনার সময় দাম ছিল ৩৬ লক্ষ ৫ হাজার ৮৫৩ টাকা। বর্তমানে এটির বাজারমূল্য ৪০ লক্ষ টাকা।
তাঁর স্ত্রীর নামে সল্টলেকে ও রাজারহাটে দুটি ফ্ল্যাট আছে, যেগুলির দাম যথাক্রমে ১৭ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা এবং ৩২ লক্ষ ২৯ হাজার ৮৫০ টাকা। দুটি ফ্ল্য়াটের বর্তমান দাম ৯০ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা।
সব্যসাচী দত্তের নামে মোট ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ১০ হাজার টাকার ঋণ আছে। তাঁর স্ত্রীর নামে ৫৬ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার ঋণ আছে।
স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আয়ের উৎস হিসাবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন।