
কলকাতা: আইনি প্রক্রিয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের বিতর্কিত প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। ২০২৪ সালের সেই ভয়াবহ অগাস্টে কর্তব্যরত তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পাশাপাশি আর্থিক দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। ঘটনার প্রায় দু’বছর কাটতে না কাটতেই দুই মামলায় তাঁর জামিন পাওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত চিকিৎসকের বাবা। একই সঙ্গে বিচার চেয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনে আন্দোলনের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইন আবেগের বশে চলে না এবং জামিন পাওয়া যে কোনো অভিযুক্তের আইনি অধিকারের মধ্যে পড়ে। তবে জামিন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে অভিযুক্ত নির্দোষ বা তাঁর সঙ্গে অপরাধের কোনও যোগ নেই।
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “জামিন পাওয়াটাও তো আইনসিদ্ধ অধিকার। এখন বেল পেয়েছেন বলেই, সে অপরাধী নয়, বা তাঁর সঙ্গে অপরাধের দূর দূর পর্যন্ত কোনও সম্পর্ক নেই, এটা তো প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।”
উল্লেখ্য, সন্দীপ ঘোষের জামিন পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিলোত্তমার বাবা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তাঁদের কাছে সুষ্ঠু বিচার পাওয়াটাই একমাত্র অগ্রাধিকার।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলবন্দি রয়েছেন সন্দীপ ঘোষ। আর্থিক দুর্নীতি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে। আর্থিক দুর্নীতি মামলায় মোট ১৪৭ জন সাক্ষী রয়েছে। তবে, এখনও পর্যন্ত মাত্র ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে। সেক্ষেত্রে, বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। মূলত, এই দুই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই কলকাতা হাইকোর্টের জামিন খারিজের নির্দেশ বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। পুজোর মুখে স্বস্তি পেয়েছেন সন্দীপ। কিন্তু লড়াই জারি রেখেছেন তিলোত্তমার বাবা-মা।