
নয়া দিল্লি: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে (Sandip Ghosh) জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় জামিন পেলেন তিনি। বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির কথা বিবেচনা করেই তাঁকে জামিন দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। এরপরই সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হন সন্দীপ। শুক্রবার সেই মামলাতেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ বাতিল করে সন্দীপ ঘোষের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ।
২০২৪-এর ৯ অগস্ট আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরই সামনে আসে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। ওই ঘটনায় প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে সন্দীপ ও টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন সন্দীপ ঘোষ। কিন্তু, বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল, সন্দীপের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে। ওই টাকা সরাসরি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বলেও উল্লেখ করে আদালত। অভিযুক্ত প্রভাবশালী হওয়ায় সাক্ষীদের উপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় সন্দীপের জামিন বাতিল করে দেয় হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন সন্দীপ।
আজ সেই মামলারই শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, দু’বছরেরও বেশি সময় জেলবন্দি। অথচ ১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র সাত জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ বন্দিদশা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার এই ধীরগতির কথা মাথায় রেখেই সন্দীপ ঘোষকে জামিন দেওয়া হচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টের জামিন খারিজের নির্দেশ খারিজ করে এই নির্দেশ দেয় বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
সন্দীপের বিরুদ্ধে আরজি করের ডেপুটি সুপারের অভিযোগ ছিল, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালের অন্দরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি চলছিল। চিকিৎসার সরঞ্জাম কেনার নামে টেন্ডারে কারচুপি সহ একাধিক অভিযোগ ছিল। নিজের ঘনিষ্ঠ লোকজনকে বরাত পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে সন্দীপের বিরুদ্ধে।