AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Sudipta Sen: সারদা সাম্রাজ্যের ‘অধিপতি’ থেকে জেলবন্দি, ফিরে দেখা সুদীপ্ত সেনের ১৩ বছর…

Sudipta Sen gets bail: সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে সবমিলিয়ে ৩৮৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮৭টি মামলায় আগেই জামিন পেয়েছেন তিনি। আর বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে বাকি দুটি মামলাতেও জামিন পেলেন। বৃহস্পতিবারই জেলমুক্তি ঘটতে পারে তাঁর।

Sudipta Sen: সারদা সাম্রাজ্যের 'অধিপতি' থেকে জেলবন্দি, ফিরে দেখা সুদীপ্ত সেনের ১৩ বছর...
কোন পথে এগোল সারদা মামলা?Image Credit: TV9 Bangla
| Updated on: Apr 08, 2026 | 11:37 PM
Share

কলকাতা: চাকচিক্য। বৈভব। একসময় তাঁর আশপাশে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজ্যজুড়ে সারদা চিটফান্ড জাল বিস্তার করেছিল। রাজ্যের বাইরেও সেই জাল ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক সংবাদমাধ্যমও ছিল। কিন্তু, আচমকা রাজ্যের হাজার হাজার মানুষের মাথায় হাত পড়ল। সারদা দুর্নীতির খবর সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে উঠল। ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল কাশ্মীরের সোনমার্গ থেকে গ্রেফতার করা হয় সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনকে। একইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয় সুদীপ্তর সঙ্গী দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে। ১৩ বছর পর ৩৮৯টি মামলাতেই জামিন পেলেন সুদীপ্ত সেন। বৃহস্পতিবার জেল থেকে ছাড়া পেতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে ফিরে দেখা যাক, এই ১৩ বছরের কোনও পথে এগোল মামলা।

সুদীপ্ত সেনের সারদা চিটফান্ডের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কয়েক হাজার কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠে। সারদার দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পরই ২০১৩ সালের এপ্রিলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শ্যামল সেনের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করে রাজ্য সরকার। ওই কমিশন রাজ্যের ঘোষিত ৫০০ কোটির তহবিল থেকে প্রায় ২২৫ কোটি টাকা ফেরত দেয় আমানতকারীদের। সেই কমিশন রাজ্য বন্ধ করার পর তহবিলে থাকা টাকা ও যাবতীয় হিসেব-নিকেশ রাজ্যের কাছে পাঠিয়ে দেয় কমিশন।

২০১৪ সালের জুনে সুপ্রিম কোর্ট সারদা মামলায় সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। শীর্ষ আদালতের নজরদারিতেই এই তদন্ত হবে জানায়। সিবিআইকে বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তদন্তও করতে বলে।

তদন্ত শুরুর পর সুদীপ্ত সেন, দেবযানী মুখোপাধ্যায়-সহ ৬ জনকে নিজেদের হেফাজতে নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে ২০১৪ সালের অক্টোবরে প্রথম চার্জশিট আদালতে জমা দেয় সিবিআই।

সিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০০৬-০৭ সাল থেকে জমি, ফ্ল্যাট পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলেন সুদীপ্ত সেন। তাঁর সেই প্রকল্প গতি পায় ২০০৮-০৯ সালে। সারদা চিটফান্ডের এই প্রকল্পে অধিকাংশ আমানতের মেয়াদ পূরণ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালের এপ্রিল নাগাদ।

এপ্রিলে আমানতকারীদের বকেয়া মেটানোর কথা বলা হয়। কিন্তু, ২০১৩ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে রাজ্যজুড়ে সারদার শাখা কার্যালয়গুলোর ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়। সল্টলেকে সারদার প্রধান অফিসেও তালা পড়ে।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই আমানতকারীদের মধ্যে শোরগোল পড়ে। এরই মধ্যে গা ঢাকা দেন সুদীপ্ত সেন। সঙ্গে ছিলেন দেবযানী মুখোপাধ্যায়। ২৩ এপ্রিল সোনমার্গে ধরা পড়েন তাঁরা।

সুদীপ্তর বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ যেমন মামলা করে, তেমনই সিবিআইও মামলা করে। এমনকি, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ও সেবিও মামলা দায়ের করে। এই মামলায় নাম জড়ায় শাসকদলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর। রাজ্যের পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে সিবিআইকে একটি চিঠি লিখেছিলেন সুদীপ্ত সেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।

পরে জেলবন্দি অবস্থায় আরও একাধিক চিঠি লেখেন সারদা কর্তা। সেখানে তিনি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন। তবে শুভেন্দুর দাবি, সুদীপ্তকে ‘শিখিয়ে পড়িয়ে’ এসব লেখানো হয়েছে। সুদীপ্ত তাঁর চিঠি কংগ্রেস ও সিপিএমের একাধিক নেতারও নাম নেন। চিঠি পাঠান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে।

সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে সবমিলিয়ে ৩৮৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮৭টি মামলায় আগেই জামিন পেয়েছেন তিনি। আর বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে বাকি দুটি মামলাতেও জামিন পেলেন। বৃহস্পতিবারই জেলমুক্তি ঘটতে পারে তাঁর।

Follow Us