
কলকাতা: সারদা মামলায় জামিন পেলেন সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন। বুধবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সুদীপ্ত সেনের জামিন মঞ্জুর করে। আগেই বাকি সব মামলায় জামিন পেয়েছেন সুদীপ্ত। অর্থাৎ এই মামলায় জামিন পাওয়ার পর জেলমুক্তি হতে চলেছে সুদীপ্ত সেনের। সব ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবারই জেলমুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সুদীপ্ত সেনের। এই ঘটনায় কুণাল ঘোষ বললেন, ” এখানে অন্য কোনও মন্তব্য করার অবকাশও নেই। ”
সুদীপ্ত সেনের জামিনের নির্দেশের পর TV9 বাংলার তরফে যোগাযোগ করা হয় তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষের সঙ্গে। তিনি বলেন, “এটার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্কই নেই। এটা সম্পূর্ণ আইনের বিষয়ু যে কোনও অভিযুক্ত কিংবা যে কোনও বন্দির পূর্ণ অধিকার রয়েছে, আদালতের কাছে জামিন প্রার্থনা করার। সমস্ত শুনানির পর আদালত জামিন মঞ্জুর করেছে। সম্পূর্ণ এটা আইনি বিষয়।”
প্রসঙ্গত, কুণাল ঘোষ ছিলেন সারদা গ্রুপের মিডিয়া উইং-এর সিইও। সুদীপ্ত সেন ছিলেন সারদা সংস্থার কর্ণধার। কুণাল ঘোষ মূলত সারদা পরিচালিত বিভিন্ন খবরের চ্যানেল এবং সংবাদপত্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। সারদা কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হচ্ছে এবং এই দুর্নীতির পেছনে আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রয়েছেন। অন্যদিকে, সুদীপ্ত সেন একাধিকবার চিঠিতে বা জবানবন্দিতে কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনেছিলেন।
২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয় সুদীপ্ত সেনকে। সারদা গোষ্ঠী দেউলিয়া হওয়ার পর সুদীপ্ত সেন গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত কাশ্মীরের সোনমার্গ থেকে তাঁকে, তাঁর সহযোগী দেবযানী মুখোপাধ্যায় এবং অরবিন্দ সিং চৌহানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ওই বছরই ২৩ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয় কুণাল ঘোষকে। বিধাননগর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে আমানতকারীদের টাকা নয়ছয় এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল। গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক নেতার নাম প্রকাশ করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছিলেন। প্রায় ৩৪ মাস জেলে থাকার পর ২০১৬ সালে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তীকালে তিনি পুনরায় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতিতে সক্রিয় হন ও দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। এবার তৃণমূলের বেলেঘাটা কেন্দ্রের প্রার্থীও কুণাল।