
কলকাতা: গত কয়েকমাস ধরে তাঁকে খুঁজে পাচ্ছিল না পুলিশ। ভিনরাজ্যে গা ঢাকা দিয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠছিল। সেই সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার সোমবার গটগট করে হেঁটে সল্টলেকে ইডি দফতরে ঢুকলেন। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী। আর সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকার সময় সোনা পাপ্পু দাবি করলেন, তিনি কোনও দোষ করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত তোলাবাজির একটাও অভিযোগ থানায় দায়ের হয়নি বলে মন্তব্য করলেন।
গত ১ ফেব্রুয়ারি এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ঢাকুরিয়ার কাঁকুলিয়া রোড। বোমাবাজি করা হয়। গুলিও চলেছিল বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। আর সেই ঘটনাতেই সামনে আসে সোনা পাপ্পুর নাম। তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের একাধিক নেতার সঙ্গে সোনা পাপ্পুর ছবি সামনে আসে। কাঁকুলিয়া রোডের ঘটনার পর থেকে পুলিশ সোনা পাপ্পুর কোনও খোঁজ পায়নি। তবে মাঝে মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বক্তব্য রাখেন সোনা পাপ্পু।
জমি দখল, বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ উঠে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে। তদন্তে নামে ইডি। সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তাঁকে না পেলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জয় কামদারকে ইডি গ্রেফতার করে। কয়েকদিন আগে গ্রেফতার করা হয় কলকাতা পুলিশের আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে। এই পুলিশকর্তার সঙ্গেও সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। জয় কামদার ও শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে ইডি গ্রেফতার করলেও সোনা পাপ্পুর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকার আগে কী বললেন সোনা পাপ্পু?
এদিন আচমকা সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে সস্ত্রীক হাজির হন সোনা পাপ্পু। ইডি অফিসে ঢোকার মুখে সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, “আমি কোনও দোষ করিনি।” তারপরই বলেন, “জীবনে আমি কোনওদিন তোলাবাজি করিনি। আমার সোনার দোকান রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত থানায় একটাও তোলাবাজির অভিযোগ নেই।” জয় কামদার তাঁর বন্ধু বলে স্বীকার করেন সোনা পাপ্পু। তাঁর বিরুদ্ধে ইডি এখন কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার।