
কলকাতা: ভবানীপুর বিজেপির জায়গা। ২০১৪ সালে রাজ্যে যখন বিজেপি প্রথমবার ১৮ শতাংশ ভোট নিজেদের দিকে টানতে সক্ষম হয়েছিল, সেই সময় এই ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেই অনেকটা লিড পেয়েছিলেন তথাগত রায়। শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় গ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত ভবানীপুর সাংগঠনিক সভায় কার্যকর্তাদের মনোবল বাড়াতে সেই পুরনো পরিসংখ্যানকেই তুলে ধরলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, ভবানীপুরেই নিজের পরবর্তী মিছিলটি বের করবেন বলেও জানান তিনি।
বিরোধী দলনেতার কথায়, “আগামী ৩রা মার্চ রাধাকৃষ্ণকে নিয়ে মিছিল করব ভবানীপুরে।” বাংলার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পেতেই নজরে এসে গিয়েছে ভবানীপুর। পূর্বে শুভেন্দু বারংবার দাবি করেছিলেন, এসআইআর মিটলেই ভবানীপুরে বিজেপির সঙ্গে থাকা ভোটের ব্যবধান কমে যাবে। চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ লক্ষ ৬ হাজার ২৯৫। খসড়া তালিকা ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নাম বাদ গিয়েছে মোট ৪৭ হাজার ৯৪ জনের। এছাড়াও আরও ১৪ হাজার ১৫৪ জন ভোটার এখনও অমীমাংসিত বা বিচারাধীন।
শুভেন্দুর দাবি, “যে ভাবে ভোটার বাদ গিয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে মাননীয়া জিতছেন কীভাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোল্ড আউট করতে হবেই। একেবারে বোল্ড আউট করতে হবেই।” শুধু তা-ই নয়, তৃণমূল সুপ্রিমোকে ভবানীপুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। বিরোধী দলনেতার দাবি, “যদি দম থাকে, ভবানীপুর ছেড়ে পালাবেন না। একদম পালাবেন না। দম থাকে তো ভবানীপুরে লড়বেন।”
কিন্তু আচমকাই ভবানীপুর নিয়ে চ্যালেঞ্জ কেন? ২০১১ সাল থেকে এই আসনে দাঁড়াচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ওই নির্বাচনে প্রথমে এখানে জিতেছিলেন সুব্রত বক্সী। পরে তিনি সরে দাঁড়ালে উপনির্বাচনে ৯৫ হাজার ভোটে জয়ী হন মমতা। সেই থেকে টানা ২০২১ সাল পর্যন্ত মমতার আসন থেকেছে ভবানীপুর। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের নেপথ্যে কি তা হলে শুভেন্দুর দাঁড়ানোর জল্পনাই রয়েছে? বিজেপির ঘরে-বাইরে অনেকেই বলছিলেন, ভবানীপুরে দাঁড়াতে পারেন তিনি। যদিও তাতে কখনও সিলমোহর দেননি শুভেন্দু। নতুন করে এই চ্য়ালেঞ্জ যেন সেই জল্পনাকেই বাড়তি উস্কানি দিয়েছে।