কলকাতা: বৃহস্পতিবার তৃণমূলের মেগা বৈঠক থেকে বড় অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, একই নম্বরে একাধিক ভোটারের নাম পাওয়া যাচ্ছে, বাংলার ভোটারদের এপিক নম্বরে হরিয়ানা বা গুজরাতের ভোটারদের নাম পাওয়া যাচ্ছে। বিজেপি এজেন্সি পাঠিয়ে এই কাজ করছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ইস্যুতেই এবার সরব হল বিজেপি। শুক্রবার মমতার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
কী বললেন শুভেন্দু?
তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, “ভূতুড়ে ভোট তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রোহিঙ্গা মুসলিম, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ৯টা সীমান্তবর্তী জেলায় ভুয়ো ভোটারের নাম তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই আধার ও এপিক লিঙ্ক করে বায়োমেট্রিক মেশিন দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ভোট করাতে হবে।”
শুভেন্দুর অভিযোগ, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ গত শনিবার জেলাশাসকদের সঙ্গে নবান্ন থেকে বৈঠক করেছেন। মুখ্যসচিব এমন কোনও বৈঠক করতে পারেন না বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু।
শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যে ৯ জনের নাম বলেছেন, সিইও ইনচার্জ আমাদের বলেছেন, ওগুলো বেসলেস ও ফেক। কমিশন বলছে, কোনও কারণে প্রিন্টিং মিসটেক আছে হয়ত, ঠিক করে দেওয়া হবে।”
শুভেন্দু বলেন, “আমরা বারবার বলেছি রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় আছে। আপনারা কী করেছেন? আমরা মাথায় করে ১৫০০০ পাতার অভিযোগ জমা করেছি যে ১৬ লক্ষ ডবল এন্ট্রি আছে। কমিশন সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ লক্ষ বাদ দিয়েছে। আমরা চাই ১৬ লক্ষ ডবল এন্ট্রি বাতিল করতে হবে। মমতা যেসব উদাহরণ দিয়েছেন, সে সম্পর্কে কমিশন বলেছে এগুলো ভুল তথ্য।”
শুভেন্দুর মতে আলাদা আলাদা অভিযোগের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মতুয়া ও হিন্দিভাষীদের টার্গেট করে যাতে বাদ না দেওয়া হয়, সেই বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু।
ভূতুড়ে ভোটার সরাতে কমিটি গঠন করে দিয়েছেন মমতা। শুভেন্দু এদিন উল্লেখ করেছেন, ঘাটাল সাংগঠনিক জেলায় তৃণমূলের একটি সার্কুলারে বলা হয়েছে, ভোটার লিস্ট আবর্জনা মুক্ত করতে রবিবার ডেবরা অডিটোরিয়ামে সবাইকে জড় করতে হবে। শুভেন্দু বলেন, ‘তুমি কে হরিদাস? ভোটার লিস্টে হস্তক্ষেপ করছ?’
জেলাশাসকদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, ‘আপনারা ঠিক করুন কার কথা শুনবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনবেন, নাকি নিজেদের চাকরি বাঁচাবেন?’ শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, বিডিও-দের একাংশের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর তালে তাল মেলাবেন। এই বিষয়ে নজর রাখার কথা বলেন শুভেন্দু।
মমতা বলেছেন, এআরও-দের কথা। এটা এক্তিয়ার বহির্ভূত কথা বলে দাবি শুভেন্দুর। তিনি উল্লেখ করেন, পুরোটা নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। শুভেন্দুর দাবি, কমিশনকে বলতে হবে, মুখ্যমন্ত্রীর কথায় এআরও বা ডিএম-রা যেন ভয় না পায়।