
কলকাতা: রাজ্যসভায় আসলে দু’জনকে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ প্রার্থী করেছে তৃণমূল! বিধানসভার বসে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যসভায় মেনকা গুরুস্বামী, রাজীবকুমারকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। প্রার্থী করা হয়েছে কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয়কেও। বৃহস্পতিবার তাঁরা বিধানসভায় মনোনয়ন জমা দিলেন। পাশাপাশি মনোনয়ন জমা দিলেন বিজেপি বর্ষীয়ান নেতা রাহুল সিনহা। এরপর সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৈঠকেই শুভেন্দু তৃণমূলের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে মুখ খোলেন।
একসময়ে তাঁর দলের পুরনো নেতা, লড়াইয়ের সঙ্গী সুব্রত বক্সীকে এবার প্রার্থী না করায় কার্যত ক্লেশ ধরা পড়ে শুভেন্দুর গলায়। তিনি বলেন, ” সব রাজনৈতিক লোককে তিনি বাণপ্রস্থে পাঠিয়ে দিয়ে, তিনি এককভাবে প্রার্থী করেছেন দু’জনকে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ।” তাঁর বিস্ফোরক দাবি, “সারদার ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস নষ্ট করার জন্য রাজীব কুমারকে পুরস্কার দিয়েছেন, বিনীত গোয়েলকে আরজি কর কেসে বাঁচিয়ে দেওয়ার জন্য মেনকা গুরুস্বামীকে গিফট দিয়েছেন।”
এই কথা প্রসঙ্গেই শুভেন্দুর গলায় ধরা পড়ে তাঁর পুরনো দলের নেতা সাংগঠনিক দক্ষতার প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “সুব্রত বক্সীর মতো, ওনার যুব কংগ্রেসের সময় থেকে রয়েছেন। উনি হাঁটতে পারেন, চলতে পারেন, এখনও পর্যন্ত জেলার সংগঠন দেখেন।” কথা বলতে বলতে একসময়ে সুব্রত বক্সীকে ‘বক্সীদা’ বলেও সম্বোধন করে ফেলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ” এখন জিজ্ঞাসা করতে গেলে বক্সী দা বলবেন, তিনি নিজে থেকে না বলেছেন। আমাদের কষ্ট হচ্ছে, যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসটা তৈরি করেছিল, সেই নেতাকে আজকে অবসরে পাঠানো হচ্ছে। বাবুল সুপ্রিয়, কোয়েল মল্লিক, মেনকা গুরুস্বামী, আর রাজীব কুমারের মতো কুখ্যাত আইপিএস-কে জায়গা করে দেওয়ার জন্য। সুব্রত বক্সীকে আজকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে।” এই গোটা বিষয়টি বাংলার রাজনীতিতে অত্যন্ত পীড়াদায়ক বলেও উল্লেখ করেন শুভেন্দু।
প্রসঙ্গ, রাজ্যসভায় তৃণমূলের প্রার্থী নিয়ে যখন জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তখনও সুব্রত বক্সীর নামটা ধ্রুব ছিল। প্রথম দিকে অবশ্য শোনা যাচ্ছিল, শারীরিক অসুস্থতার কারণে হয়তো এবার সুব্রত বক্সী প্রার্থী হবেন না। কিন্তু পরে আবার সে জল্পনা কিছুটা ক্ষীণও হয়। কিন্তু খানিকটা আকস্মিকভাবেই চার জন প্রার্থীর নাম সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা হয় তৃণমূলের তরফে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে তিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন।তাঁর মেয়াদ শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের ৩ এপ্রিল। এর আগে তিনি রাজ্যসভায় ছিলেন না। তিনি মূলত ২০১১ থেকে ২০১৯ সালে দক্ষিণ কলকাতার লোকসভার সাংসদ ছিলেন। তার আগে ভবানীপুরের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন। সেক্ষেত্রে একেবারেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন পা রাখছেন রাজীব কুমার, মেনকা গুরুস্বামী, কোয়েল মল্লিকরা। এই গোটা বিষয়টি বাংলার রাজনীতিতে অত্যন্ত পীড়াদায়ক বলেও উল্লেখ করেন শুভেন্দু।