
কলকাতা: শুভেন্দু-সরকারের মূল লক্ষ্য রাজ্যের প্রান্তিক ও গরিব মানুষের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। এই উদ্দেশ্য পূরণে রাজ্য সরকার একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সামনে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এ কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের চিন্তাভাবনাটা সবসময় প্রান্তিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্য আছে। কোনও নেতামন্ত্রীর লোকেরা সরকারি হাসপাতালে যায় বলে আমার মনে হয় না।”
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে হাসপাতালগুলোর ওপর নজরদারি চালানোর জন্য বিশেষ মনিটারিং ব্যবস্থাও চালু করার চিন্তাভাবনা চলছে। যেটি সরাসরি স্বাস্থ্য়মন্ত্রীর অফিস থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তিনি জানান, “সমস্ত সাব ডিভিশন হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজগুলোর ওপর সরাসরি মনিটারিং হচ্ছিল, পরিষ্কার আছে কিনা, এমার্জেন্সিতে রোগী পড়ে রয়েছেন কিনা, আউটডোরের কী অবস্থা… আমি সব দেখে এসেছিলাম।”
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত ১৫-১৬ স্টেট হাসপাতালে হয়েছে, তবে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সাব ডিভিশনাল পর্যায়ে করে ফেলতে হবে। তিনি বলেন, “এমনকি রান্নাঘর, পার্কিং, ন্যায্য মূল্যে ওষুধের দোকানগুলোতেও নজরদারি চলবে।”
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল হেলথ মিশনে সাহায্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২,১০৩ কোটি টাকার তহবিল অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালাল রাজ খতম করতে এবং এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রোগীকে অযথা ‘রেফার’ করার প্রবণতা রুখতে স্বাস্থ্যভবনের সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম থেকে লাইভ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের রোগীদের খাবারের মানও উন্নত করা হয়েছে। ৫৪ টাকার বদলে ১১০ টাকা করা হয়েছে। সেক্ষেত্রেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২০১৭ সালে শেষবারের জন্য খাবারের টাকা রিভাইজ করা হয়েছিল। আজ ‘২৭ সাল আসতে চলেছে। বাড়ির জিনিস তো বাজারে কিনতে যান, বোঝেন তো দাম বেড়েছে। এই প্র্যাকটিক্যাল বিষয়টাই বোঝেনি বিগত সরকার।”