
কলকাতা : ভোট মিটতেই শুরু স্ট্রংরুম বিতর্ক। ঝড়-বৃষ্টির রাতে টানটান উত্তেজনা। ক্ষুদিরাম অনুশীলনের বাইকে কুণাল-শশীর (Kunal Ghosh-Sashi Panja) ধরনা থেকে শুরু করে তৃণমূল-বিজেপি (TMC-BJP) সংঘর্ষ। তুলকালাম পরিস্থিতি স্ট্রং রুমের বাইরে। ঠিক তখন আরও উত্তেজনার পারদ চড়ালেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। বৃষ্টি মাথায় করেই পৌঁছে গেলেন শাখওয়াত মেমোরিয়ালে। হাইভোল্টোজ ভবানীপুরের ইভিএম রয়েছে সেখানেই। প্রথমে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও পরে স্ট্রং রুমের ভিতরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেও চলল জোর টক্কর। ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) স্ট্রং রুমের ভিতরে রীতিমতো পাহারা দিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নির্বাচনী এজেন্ট। ছবি পোস্ট করে এমনই দাবি করেছেন শুভেন্দু।
কী লিখেছেন শুভেন্দু অধিকারী?
সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্র রুমের ভিতরের ছবি পোস্ট করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দেখা গেল, একদিকে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঠিক মুখোমুখিই বসে রয়েছেন শুভেন্দুর নির্বাচনী এজেন্ট সূর্যনীল দাস। ছবিতে তাঁকে চিহ্নিত করে দিয়েছেন শুভেন্দু। ক্যাপশনে লেখেন, “ভবানীপুর নির্বাচনী এলাকা-সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী, মাননীয়াকে কোনওরকম বাড়তি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়েছে।”
কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাহারা?
শুভেন্দুর দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাহারায় রেখেছিলেন তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট। কেন? ক্যাপশনে লেখেন, “উনি যতই চেষ্টা চালান না কেন, কোনও রকম নিয়ম বহির্ভূত কাজ তিনি করতে পারেননি। উনি যতক্ষণ স্ট্রং রুম প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন, আমার ইলেকশন এজেন্ট অ্যাডভোকেট সূর্যনীল দাস নিজে উপস্থিত থেকে ওনাকে কড়া নজরদারির মধ্যে রেখেছিলেন যাতে উনি কোনও অসৎ উপায় অবলম্বন করতে না পারেন…”। অর্থাৎ শুভেন্দু দাবি করলেন, তাঁর এজেন্টের কড়া নজরদারিতে তৃণমূল কোনও বাড়তি সুবিধা করতে পারেনি।
শুভেন্দু অধিকারীর এই পোস্টকে ঘিরে জোর তরজা শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “এরকম নির্বাচন কমিশন দেখেছেন আপনারা? যে তাঁরা শুধু বিজেপির জন্য কাজ করে, একটা রাজনৈতিক দলের জন্য কাজ করে। নতুন গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে নির্বাচন কমিশন এর থেকে বেশি নিরপেক্ষ। আজ ভারতের নির্বাচন কমিশন যা দেখাচ্ছে, তাতে সারা পৃথিবীর মাথা হেট হয়ে যাচ্ছে।”