
কলকাতা: নবান্ন অভিযানে জমায়েতের মাঝে থেকেই স্লোগান উঠেছিল। সে স্লোগানের মুখ্য নিশানায় ছিল পুলিশ। পুলিশের বিরুদ্ধে সুর চড়েছিল ‘পুলিশ তুমি চিন্তা করো, তোমার মেয়েও হচ্ছে বড়’। আর ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয় পুলিশও। রাজ্যের একাধিক পুলিশকর্তা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন, ‘পুলিশের মেয়ের চিন্তা ছাড়ো, সে লড়াই করেই হচ্ছে বড়’। যা যথেষ্টই চর্চিত হয়। কোনও জনরোষের মাঝে ওঠা স্লোগানের পাল্টা যে প্রশাসনিক পদে থাকা কর্তাব্যক্তিরাও দিতে পারেন, তা সত্যিই নজিরবিহীন। বাংলায় এ হেন নির্দশন শেষ কবে দেখা গিয়েছে, তা মনে করতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরাও। কিন্তু এর নেপথ্যে কার ‘অনুপ্রেরণা’? এবার বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে পুলিশকর্তার নাম করেই বিস্ফোরক দাবি করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
পুলিশের পোস্ট নিয়ে শুক্রবার শুভেন্দু দাবি করেন, এ হেন পোস্টের জন্য আইপিএস সুপ্রতীম সরকারের নির্দেশ রয়েছে। শুভেন্দু বলেন, “সিঙ্গুর খ্যাত ২০০৬-এর ২৫ সেপ্টেম্বর সিঙ্গুর বিডিও অফিস থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে পেটাতে পেটাতে চ্যাঙদোলা করে তুলে এনেছিলেন যিনি, সিপিএমের সেই ব্লু আইড্ বয় সুপ্রতীম সরকার এখন এই বিষয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।” শুভেন্দু আরও দাবি করেন, “কাল আমি ১৫-২০জন আইসি, ওসি-র কাছ থেকে প্রথম খবর পাই, তাঁরা আমাকে কনফিডেনশিয়াল ফোন করে পাঠান, ‘স্যর ক্ষমা করে দেবেন, করতে বাধ্য হচ্ছি। সুপ্রতীম সরকারের নির্দেশ।”
শুভেন্দু আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের ওপর নির্ভর করেই আছেন। যে সমস্ত আইপিএস-রা নিজের ভালো পোস্টিংয়ের ব্যবস্থা করেন, নিজেদের ছেলেমেয়েদের ডাক্তারি-ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াচ্ছেন, আরামে থাকছেন, নিজেদের বিলাসবহুল লাইফ স্টাইল লিড করছেন, পুলিশের সেই এক শ্রেণির অফিসাররা নীচু তলার কর্মীদের বাধ্য করছেন এই ধরনের পোস্ট করতে।”
আরজি কর কাণ্ডের পর পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে বয়ে গিয়েছে সমালোচনার বন্যা। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে পুলিশকেও আক্রান্ত হতে হয়েছে। শুভেন্দুর দাবি, আরজি কর কাণ্ডের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি সামলাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ প্রশাসনকেই ব্যবহার করছেন। আর সেটা করতে গিয়ে নীচু তলার পুলিশ কর্মীদের বাড়তি ‘সুবিধা’ দিয়ে ম্যানেজ করছেন। শুভেন্দু বলেন, “পুলিশ তো এখন সংখ্যায় কমে গিয়েছে। কারণ নিয়োগ হয় না। ভবিষ্যতেও হবে না। কারণ ওবিসি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ ও নবান্ন অভিযানের তীব্রতার পর একটা বিষয় লক্ষ্য করবেন। সিভিক ভলান্টিয়রদের অবসরের পর বেনিফিট ৫ লক্ষ টাকা করে অর্ডারে বলা হয়েছে। আবার ২৮ তারিখে ৩০১ জন সাব ইন্সপেক্টরকে আইসি অর্থাৎ ইন্সপেক্টরের পদে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে পুলিশের নীচের তলাকে ম্যানেজ করতে চাইছেন।”