
কলকাতা: “সিপিএম-এর বিরোধিতার উপর দাঁড়িয়ে তৃণমূলের জন্ম। সেই তৃণমূল এখন বামেদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে।” এবার মমতা ও বামেদের একযোগে রেখে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিন কয়েক আগেই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে ফোনে কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জ্ঞানেশ কুমার বিতর্ক নিয়ে দেশের সব বিরোধী নেতাদের পাশাপাশি মমতাকে আগেই চিঠি লিখেছিলেন এম এ বেবি। এরপর থেকেই জোর চর্চা শুরু হয়। এরপর শনিবার শ্রীরামপুরের সভা থেকে জোটবার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপিকে রুখতে আর লাল-নীল-হলুদ দেখবেন না তিনি। এবার মমতা-সিপিএমের এই ‘বন্ধুত্ব’-কেই কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari)।
রবিবার রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতাকে মনে করিয়ে দেন নন্দীগ্রামের কথা, তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা পিছনে কারণের কথা। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যখন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তখন কংগ্রেস থেকে ঘাড় ধাক্কা খেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ রাজ্যে কমিউনিস্ট শাসনকে শেষ করার জন্য ওনাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন অটলজি। ৩৪ বছরের সিপিএমের অত্যাচার, অবিচার, সীমাহীন মানবাধিকার লঙ্ঘন, নন্দীগ্রাম থেকে নেতাই পর্যন্ত, তার উপরে দাঁড়িয়ে তৃণমূল। এখন সিপিএম ওঁদের বন্ধু হয়েছে।”
শুভেন্দুর দাবি, এর আগেও বিধানসভায় মমতা-সিপিএম-এর সখ্যতা নজরে এসেছিল তাঁর। এই বিষয়ে বলেন, “সেই বন্ধুত্ব আমরা কিছুদিন আগে বিধানসভার ভিতরেও দেখেছি। অধ্যাপক সংক্রান্ত বিলে সমর্থন না করে যখন তৃণমূল ওয়াকআউট করল, সেদিন আমরা দেখলাম ১৫টি ভোট পড়েছিল। তার মধ্যে মমতা তৃণমূলও ছিলেন, ডোমকলের সিপিএম বিধায়কও ছিলেন। যে তৃণমূল কংগ্রেস সিপিএমের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, সেই মমতা তৃণমূল কংগ্রেস সিপিএমের সঙ্গে হাত মেলালেন।”
শ্রীরামপুরে মমতার সভা নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “কার্যত জনশূন্য শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানের সভাতে ১৫০ জন লোক ছিল। আর পুলিশ ছিল ১৭০। তার মধ্যেই উনি ঘণ্টা চারেক যে ভাষায় কথা বলে গিয়েছেন, ঠিক একই ভাষায় রেজিনগরে গিয়ে একাধিক নির্বাচনে হারা সেলিম সাহেব। বারবার হেরেছেন। এবারের নির্বাচনে লড়ার ঝুঁকি নেননি। তিনিও একই ভাষায় কথা বলেছেন।”