
কলকাতা: তারাতলা বিপর্যয়ের জের, বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন, কলকাতা সমস্ত নির্মাণ আপাতত বন্ধ থাকবে। কোন কোন জায়গায় নির্মাণ বন্ধ থাকবে, বৃহস্পতিবার তা বিধানসভায় স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট বলে দেন, “আমরা চার সপ্তাহ কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, রাজারহাট নিউটাউন, মহেশতলা, বজবজ, পূজালি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর গ্রামীণ এলাকা, সোনারপুর, বারুইপুর পুর এলাকায়, সব নির্মীয়মান কাজ জরুরি পরিষেবা ছাড়া বন্ধ রাখা হল।”
পাশাপাশি সমস্ত প্ল্যান অডিট করার জন্য একটি টিমও গঠন করার কথা তিনি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “সব প্ল্যান অডিট হবে, অডিট করার জন্য কমিটি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।” তিনি জানিয়েছেন, কমিটির মাথায় থাকবেন IAS রাজেশ পাণ্ডে, অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি। সদস্য থাকবেন, IAS অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি খলিল আহমেদ, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি রাজেশ কুমার সিনহা, নগরপাল অজয় নন্দ, পুর কমিশনার, প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে, লেবার ডিপার্টমেন্টের সেক্রেটারি রচনা ভগত, PWD-র চিফ ইঞ্জিনিয়ার, KMC-র ডিজি বিল্ডিং, দমকলের ডিজি।
পাশাপাশি খড়্গপুর IIT থেকে অধ্যাপক দামোদর মাইতিকে হেড সিভিল ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানালেন মুখ্য়মন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, প্রফেসর দামোদরকেই মনোনিত করেছেন আইআইটি-র ডিরেক্টর। পাশাপাশি, তৃণমূল আমলের যত বিল্ডিং রয়েছে, তার প্ল্যান, নির্মীয়মান বিল্ডিংয়ের প্ল্যানও অডিট করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলে দিয়েছে, “যতক্ষণ না অডিট সার্টিফিকেট হচ্ছে, কোনও বিল্ডিংয়ে আমরা হাত দিতে দেব না, তারপর তো প্রপার্টি অ্যাটাচমেন্ট করে জেল খাটাব।”
তারাতলা বিপর্যয়ে তদন্তে নেমে সরকারের হাতে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর তথ্য। জানা যাচ্ছে, প্ল্যানে প্রথম থেকেই গন্ডগোল ছিল। আর সেই প্ল্যানই অনুমোদিত হয়ে গিয়েছে। সেই অনুমোদন করেছে মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেই নথিও এদিন বিধানসভায় দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “ওঁদের পাপের ফল আমাদের ভুগতে হচ্ছে।”