
কলকাতা: সাপ্লিমেন্টারি তালিকা দ্রুত প্রকাশ করতে হবে, এবার এই দাবিতে CEC জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারই ধরনা মঞ্চ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। অভিষেক তাঁর চিঠিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভোটার তালিকা নিয়ে বর্তমানে যে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মানা একান্ত জরুরি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে অবিলম্বে চূড়ান্ত এবং অতিরিক্ত ভোটার তালিকা অর্থাৎ সাপ্লিমেন্টারি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা মঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, “ইতিমধ্যেই বাংলা থেকে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম কাটা হয়েছিল। ডিসেম্বর মাসে যখন ড্রাফট ভোটার লিস্ট বেরিয়েছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি যে তালিকা প্রকাশিত হল, সেখানে অতিরিক্ত সাড়ে পাঁচ লক্ষ থেকে ছ’লক্ষ মানুষের নাম কাটা হয়েছে। সংখ্যাটা ৬৩-৬৪ লক্ষ। আর বিচারাধীন রয়েছে ৬০ লক্ষের ওপর। সংখ্যাটা ১ কোটি ২৪ লক্ষ।”
জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চিঠিতে বেশ কয়েকটি বিষয় ভাগে ভাগে উল্লেখ করেছেন অভিষেক।
প্রথমত: প্রতিদিনের ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত তালিকার উল্লেখ
২৮ ফেব্রুয়ারি যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে প্রতিদিনের ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত তালিকায় নাম ওঠা ভোটারদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা জরুরি।
দ্বিতীয়ত: বিশেষ পোর্টালে স্বচ্ছতার অভাব
জুডিশিয়াল অফিসারদের জন্য একটি বিশেষ পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে, যেখানে যাচাই সংক্রান্ত তথ্য এবং তার ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তের নথি আপলোড করা হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জনসাধারণের জন্য স্পষ্টভাবে সেই বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে না। গোটা বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারেই রয়ে গিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোও।
তৃতীয়ত: কেন বাতিল, তার কারণ উল্লেখ
কোনও ভোটারের নাম যদি বাতিল করা হয়, তবে তার নির্দিষ্ট কারণ সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকাতেও কেন কারও নাম থাকল না, তা-ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার ভিত্তিতে কোনও আইনি পদক্ষেপও করতে পারেন।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভোট ঘোষণা হবে বলে সূত্রের খবর। তার আগেই কলকাতায় আসছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। আগামী ৮ মার্চ অর্থাৎ রবিবার রাতে কলকাতায় আসবেন কমিশনের প্রতিনিধিরা। তার আগে ধর্না মঞ্চ থেকে কমিশনকে বিঁধবার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে হাতিয়ার করে কমিশনের ওপর আইনি পথেও চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।