
কলকাতা: উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই ডিএ (DA) নিয়ে সুখবর দিয়েছিল রাজ্য। আর ধনতেরাসের আগে ফের একবার বড় ঘোষণা নবান্নের। বলা ভালো রাজ্য সরকারি কর্মীদের সুখবর দিল নবান্ন (Nabanna)। মোটর সাইকেল, স্কুটার, মোপেড কিংবা ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক দু’চাকা গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ঋণের ঊর্ধ্বসীমা অনেকটাই বাড়ানো হল। অর্থ দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, বাজারে যানবাহনের মূল্যবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক স্কুটার বা ই-বাইক কেনায় সরকারি কর্মীদের উৎসাহ দিতে বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে এই নির্দেশে। অতিরিক্ত মুখ্য সচিব পি কে মিশ্রের স্বাক্ষর করা এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থ দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সাধারণ পেট্রল চালিত মোটর সাইকেল বা স্কুটার কেনার জন্য প্রথম দফায় সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে। তবে কর্মীর পাঁচ মাসের মূল বেতন কিংবা গাড়ির মূল্যের মধ্যে যেটি কম হবে, সেই অঙ্কের টাকাই ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে। দ্বিতীয়বার এমন গাড়ি কিনতে চাইলে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে। পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক যানের ক্ষেত্রে এই আর্থিক সহায়তার অঙ্ক আরও বেশি রাখা হয়েছে। প্রথমবার ইলেকট্রিক দু’চাকা কিনলে কর্মীরা সর্বোচ্চ এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁদের ছ’মাসের মূল বেতন কিংবা গাড়ির দামের মধ্যে যেটি কম, সেই অর্থ মঞ্জুর করা হবে। দ্বিতীয় দফায় ই-বাইক কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ রাখা হয়েছে ৯০ হাজার টাকা।
কারা পাবেন সুবিধা?
এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মচারীদের যোগ্যতামানও স্পষ্ট করে দিয়েছে অর্থ দফতর। রোপা ২০১৯ অনুযায়ী, যাঁদের মূল বেতন অন্তত ২৫ হাজার ৭০০ টাকা বা তার বেশি, কেবল তাঁরাই এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ঋণের টাকা শোধ করার প্রক্রিয়াটিও কর্মীদের সুবিধার্থে সহজ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঋণের আসল টাকা সর্বোচ্চ ৬০টি মাসিক কিস্তিতে বেতন থেকে কাটা যাবে। এরপর বাকি থাকা সুদের টাকা পরবর্তী সর্বোচ্চ ২০টি কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। তবে একবার ঋণ নেওয়ার পর সেই টাকা এবং সুদ পুরোপুরি পরিশোধ হওয়ার অন্তত তিন বছর না পেরোলে দ্বিতীয়বারের জন্য কোনও ঋণ মিলবে না।
একইসঙ্গে ঋণ পরিশোধে গাফিলতি রুখতে কড়া নিয়মের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে অর্থ দফতর। সময়ে কিস্তির টাকা না মেটালে অন্তত আট শতাংশ হারে চক্রবৃদ্ধি চক্রে জরিমানামূলক সুদ চাপানো হতে পারে। তবে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে ঋণ মঞ্জুরের প্রক্রিয়ায় বড়সড় বদল এনেছে রাজ্য সরকার।
নবান্ন সূত্রের খবর, এতদিন এই ফাইল অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন দফতর ঘুরে শেষ পর্যন্ত অর্থ দফতরে পাঠাতে হতো। ফলে দীর্ঘ সময় অপচয় হত। নতুন নিয়মে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরকেই সরাসরি এই ঋণ মঞ্জুর করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আবেদন জমা পড়ার পর অনেক কম সময়ের মধ্যেই কর্মীরা তাঁদের গাড়ি কেনার টাকা হাতে পেয়ে যাবেন।
নবান্নর এই পদক্ষেপ সরকারি কর্মচারীদের বড় অংশ ইতিবাচক বলেই মনে করছে। প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যে জায়গায় পৌঁছেছে, তাতে পরিবেশবান্ধব ই-বাইক ব্যবহারে কর্মীদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সেই কথা বিবেচনা করেই সাধারণ বাইকের তুলনায় ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, কর্মীর চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার আগেই যাতে সুদ-সহ সম্পূর্ণ ঋণ আদায় সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করার দায় মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষের। পাশাপাশি গাড়ি কেনার পর সেটিকে সরকারি নিয়মে বন্ধক রাখার সমস্ত আনুষ্ঠানিকতাও দ্রুত শেষ করতে হবে। সব মিলিয়ে নতুন এই ব্যবস্থায় খুশি রাজ্য প্রশাসনের নিচুতলার কর্মীরা।