
কলকাতা: রাম নবমীর আবহে কলকাতার বন্দর এলাকায় এক দুঃসাহসিক চুরি। চুরি আবার হনুমান মন্দিরে। ওয়েস্ট পোর্ট থানা এলাকার ওই হনুমান মন্দিরে গত বুধবার গভীর রাতে এই চুরির ঘটনাটি ঘটে। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দ্রুত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে ফেলেছে পুলিশ। গ্রেফতারও করা হয়েছে চারজনকে।
বৃহস্পতিবার সকালে মন্দিরের পুরোহিত এসে দেখেন মন্দিরের তালা ভাঙা। উধাও ক্যাশ বাক্স-সহ পুজোর বেশ কিছু সামগ্রী। অভিযোগ পেতেই তদন্তে নামে ওয়েস্ট পোর্ট থানার পুলিশ। মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জোরকদমে চলতে থাকে তদন্ত। পুলিশি তদন্তে জানা যায় বুধবার গভীর রাতে হুগলি জুটমিল ঘাটে একটি নৌকায় চেপে আসে কয়েকজন যুবক। নৌকা থেকে নেমে মন্দিরে ঢুকে লুঠপাট চালায়, নরায় নৌকায় চেপে চম্পট দেয়।
মন্দির থেকে একটি রুপোর মুকুট, একটি ছোট রুপোর গদা, পিতলের বড় ঘণ্টা, তামা ও পিতলের থালা, ঘটি, বাটি ও গ্লাস চুরি যায়। এছাড়াও একটি ত্রিশূল, একটি মিউজিক সিস্টেম এবং প্রণামী বক্সের নগদ প্রায় ৩০০০ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা।
এই ঘটনার তদন্তে ওয়েস্ট পোর্ট থানার সঙ্গে যৌথভাবে অভিযানে নামে রিভার ট্রাফিক পুলিশ। যোগ দেয় নর্থ পোর্ট থানার পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ থেকেই শনাক্ত করা হয় অভিযুক্তদের। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন জ্যোতিনগর কলোনি এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নর্থ পোর্ট থানা এলাকার মানিক বোস ঘাট থেকে চুরি যাওয়া বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত থাকতে পারে। সে কারণেই পুরোদমে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। বাকি সামগ্রী ও নগদ টাকা উদ্ধারের জন্যও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ধৃতদের আজ আলিপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ডিসি পোর্ট হরিকৃষ্ণ পাই জানিয়েছেন, “আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই চুরির কিনারা করেছি। বন্দর এলাকায় এর আগেও একই কায়দায় তিনটি চুরির ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমান অভিযুক্তদের সঙ্গে সেই ঘটনার কোনও যোগসূত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি আরও জানান, ভোটের বাজারে নদীপথ ব্যবহার করে কেউ যাতে কোনও অপরাধ না করতে পারে তার জন্য রিভার ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ নজর রাখছে।