
কলকাতা: তৃণমূলের ডামাডোলের মধ্যে কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমের অবস্থান কী? তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে রয়েছেন? নাকি বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের দলে? প্রাক্তন পুরমন্ত্রীকে নিয়ে জল্পনা জারি রয়েছে। সোমবার সেই জল্পনা নিজেই আরও খানিকটা বাড়িয়ে দিলেন ফিরহাদ। বিধানসভার লবিতে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে কথা বলে এদিন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গেলেন কলকাতা বন্দরে বিধায়ক।
এদিন বিধানসভায় ফিরহাদের গাড়ি ঢোকার পর দেখা গেল পিছনে আরও একটি গাড়ি ঢুকছে। সেই গাড়িতে ছিলেন এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। গাড়ি থেকে নেমে ফিরহাদের কাছে এগিয়ে গেলেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক সন্দীপন। ফিরহাদকে বললেন, ‘চলো’। ফিরহাদও তাঁর সঙ্গে এগিয়ে গেলেন। সেইসময় দেখা গেল, বিধানসভার লবিতে দাঁড়িয়ে কুণাল ঘোষ। বেলেঘাটার বিধায়ককে দেখে দাঁড়ালেন ফিরহাদ। তাঁর সঙ্গে কথা বললেন।
সেইসময় দেখা গেল, তৃণমূলের আর এক বিক্ষুব্ধ বিধায়ক জাভেদ খান সন্দীপনের সঙ্গে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর ঘরের দিকে গেলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই কুণালের সঙ্গে কথা বলে সেই রাস্তাতেই এগিয়ে গেলেন ফিরহাদ। অর্থাৎ তিনিও গিয়ে ঢুকলেন বিরোধী দলনেতার ঘরে। সেখানে ঋতব্রত, সন্দীপনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ঘরে আরও কয়েকজন বিধায়ক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
তৃণমূল যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে, তখন ফিরহাদ ওরফে ববিকে নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। গত ৮ জুন সন্দীপনের সঙ্গে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে গিয়েছিলেন ফিরহাদ। সেইসময় ঘণ্টাখানেক সেখানে ছিলেন তিনি। বেরিয়ে আসার পর ফিরহাদ কিছু বলেননি।
আবার দিন তিনেক আগে ফিরহাদকে নিয়ে প্রশ্নে ঋতব্রত বলেছিলেন, “আমি ব্যক্তি সম্পর্কে বলব না। আমি সংখ্যায় যাব। আমি ও সন্দীপন ছাড়া এবং যাঁদের কথা বলেছি, তাঁদের ছাড়া কারও কথা বলব না। যখন বিধানসভার অধিবেশন হবে, তখন দেখা যাবে।” শেষপর্যন্ত ফিরহাদ কী অবস্থান নেন, সেটাই দেখার।