TMC Money Laundering: কেম্যান দ্বীপে রাখা তৃণমূলের গুপ্তধন? সবটা ফাঁস করে দিলেন তৃণমূলেরই বিধায়ক

TMC Money Laundering Allegation: টাকা মূলত দু'ভাবে সরানো হয়। আইন ফাঁকি দিয়ে, অর্থাৎ আইনের ফাঁক খুঁজে, সে পথে টাকা পাচার। দ্বিতীয়টা হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা সরানো হয়। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তি ভারতে একটি কোম্পানি খুললেন, তাতে যা লাভ হবে, তার ভিত্তিতে সরকারকে কর দিতে হবে। এবার এই কর ফাঁকি দেওয়ার জন্যই সেই ব্যক্তি কেম্যান আইল্যান্ডের মতো জায়গায় এই কোম্পানির নামেই একটি শাখা কোম্পানি খোলেন।

TMC Money Laundering: কেম্যান দ্বীপে রাখা তৃণমূলের গুপ্তধন? সবটা ফাঁস করে দিলেন তৃণমূলেরই বিধায়ক
কেম্যানে তৃণমূলের গুপ্তধন?Image Credit source: Meta AI

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Jul 16, 2026 | 3:23 PM

কলকাতা:  তৃণমূলের ‘গুপ্তধন’ ক্যারিবিয়ান দ্বীপে পাচার করা হয়েছে। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ ভানুয়াতুরের পর এবার ক্যারিবিয়ান দ্বীপ কেম্যানের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের। মালদহ জেলা তৃণমূল সভাপতি ঋতব্রত শিবিরের বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূলের সঙ্গে কেম্যান দ্বীপের যোগ পাওয়া গিয়েছে।  টাকা পাচার হয়েছে। চাঁচলের তৃণমূল বিধায়কের বক্তব্য, তৃণমূল নেতাদের সম্পত্তি রয়েছে বাংলাদেশেও। কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে কয়লা পাচার মামলায় অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বিনয় মিশ্র আশ্রয় নিয়েছিলেন ভানুয়াতুরে। বিনয় অভিষেক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি যুব তৃণমূলের পদাধিকারীও ছিলেন।  প্রসূনের কথায়, “তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কেম্যান আইল্যান্ডের একটা লিঙ্ক পাওয়া গিয়েছে। যেখান থেকে মানি ট্রেল হয়েছে। আগামী দিনে মালদহের সঙ্গে বাংলাদেশেরও ট্রেইল পেতে পারেন।”

প্রশ্ন হচ্ছে, কোন পন্থায় এই দ্বীপে টাকা পাঠানো হল? কীভাবে কেম্যান দ্বীপেই কর ফাঁকি দিতে টাকা লুকানো হয়?

বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল কেম্যান নয়, ভানুয়াতু, মোনাকো, লুক্সেমবার্গ,  ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড- এই ধরনের দ্বীপগুলোকে বলা হয় ট্যাক্স হেভেন বা কর ফাঁকির স্বর্গরাজ্য। কারণ এই দেশগুলোতে কোনও কর্পোরেট ট্যাক্স, ইনকাম ট্যাক্স, কোনও ধরনেরই ট্যাক্স নেই। যাঁরা কালো টাকা সাদা করতে চান, তাঁরা এই সমস্ত জায়গায় সেল কোম্পানি খোলেন। সেল কোম্পানি অর্থাৎ যে কোম্পানির কেবল কাগজে কলমে অস্তিত্ব রয়েছে। তার কোনও প্রতিষ্ঠান, কারখানা, অফিস এমনকি উৎপাদন- কিছুই থাকে না।

টাকা মূলত দু’ভাবে সরানো হয়। আইন ফাঁকি দিয়ে, অর্থাৎ আইনের ফাঁক খুঁজে, সে পথে টাকা পাচার। দ্বিতীয়টা হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা সরানো হয়। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তি ভারতে একটি কোম্পানি খুললেন, তাতে যা লাভ হবে, তার ভিত্তিতে সরকারকে কর দিতে হবে। এবার এই কর ফাঁকি দেওয়ার জন্যই সেই ব্যক্তি কেম্যান আইল্যান্ডের মতো জায়গায় এই কোম্পানির নামেই একটি শাখা কোম্পানি খোলেন। দেশে তৈরি উৎপাদন কেম্যান দ্বীপে পাঠিয়ে দেন। সেক্ষেত্রে ভারতে কোনও কর দিতে হচ্ছে না।  কেম্যান আইল্যান্ড থেকে ইউরোপের কোনও দেশে বিক্রি হল। যেহেতু কেম্যানে কোনও করপ্রথা নেই, তাই লাভের জন্য সরকারকে কোনও কর দিতে হল না।

কীভাবে কেম্যানে তৃণমূলের ‘গুপ্তধন’?

তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি,  ১.৭৫ মিলিয়ন আনসিকিওরড লোন অর্থাৎ কোনও কিছু বন্ধক না রেখেই যে ঋণ নেওয়া হয়, সেটি কেম্যান দ্বীপের একটা সেল অ্যান্ড ফিন্যান্স কোম্পানির জন্য করা হয়েছিল। একটি হেলিকপ্টার কেনার জন্য। এখানে আরেকটি সংস্থার নাম উঠে এসেছে। সেটি হল কেয়ারবেল অ্যাভিয়েশন অফ ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। এখন এটি ইডি-র তদন্তাধীন বিষয়। তাই এই সংক্রান্ত তথ্য এখনই খুব বেশি সামনে আসবে না।

এই অভিযোগ যদি মিথ্যা হয়, তাহলে সেই সময়ে যাঁরা পার্টির ফান্ড দেখতেন, তাঁদের উচিত সামনে এসে একটি স্টেটমেন্ট দিতে। তিনি আরও জানান, মালদহের এক-দু’জন নেতা বাংলাদেশে বিশেষত স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছেন। বাংলাদেশে কেন বিনিয়োগ, সেটাও তদন্তের প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন তিনি।

গোটা বিষয়টি নিয়ে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের কটাক্ষ, “এর আগে তো এই দ্বীপটার নাম ভূগোল যখন পড়তাম, তখন হয়তো পড়েছি। আর তো শুনিনি। তৃণমূল না থাকলে এই দ্বীপগুলোর নামও আমরা জানতে পারতাম না। এই লোকগুলো এখন কেমন তদন্তের কথা বলছেন। উনি তো পুলিশ, ওনার কাছে তথ্য কম থাকার কম নয়। কিন্তু আগে কি আঁচ পাননি?”

Follow Us