
কলকাতা: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অপমানে তোলপাড় দেশ। রাজ্য বনাম রাষ্ট্রপতির ‘সংঘাত’ বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়েছে। রাষ্ট্রপতির ‘অপমান’-বিতর্কে আয়োজক সংস্থাকেই দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে, সাফাই দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকেই বেলাগাম আক্রমণ করে বসলেন তৃণমূল বিধায়ক সুপ্তি পাণ্ডে। রাষ্ট্রপতিকে ‘ধিক্কার’ জানালেন সুপ্তি।
সুপ্তি পাণ্ডে বলেন, “রাষ্ট্রপতিকে আমি বলব ধিক্কার। বলা উচিত নয়। মেয়ে তিনি, সবার উপরে একজন মেয়ে। তিনি আরেকজন মেয়েকে বলছেন, ক্ষমতার উৎস আমাদের কাছে। মুখ্যমন্ত্রীকে বলে আসলে আমাদের সকল মেয়েকে অপমান করছেন।”
স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কের মাঝে এই মন্তব্য আরও ঘৃতাহুতি করেছে। বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “দলের রুচি তো মুখ্যমন্ত্রী বেঁধে দেন। আরজি করের অপরাধীদের আড়াল করার জন্য দুষ্কৃতীদের ঢাল হিসাবে কাজ করা হয়েছিল।এই ভাষা তৃণমূলের বিসর্জনকে আরও নিশ্চিত করছে। আমাদের রাষ্ট্রপতি একজন প্রান্তিক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন, তাঁকে অসম্মান করা মানে সারা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাসিন্দাদের অসম্মান করা। বঙ্গবাসী হিসাবে আমাদের মাথা লজ্জায় হেট হয়ে যাচ্ছে।”
এদিকে, এদিনই ধর্মতলায় ধরনা মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি এ প্রসঙ্গে দু-এক কথা বলা শুরু করতেই তাঁকে মাঝখানে থামিয়ে দেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। চন্দ্রিমার বক্তব্য হল, রামমন্দির উদ্বোধনের সময়ে রাষ্ট্রপতি কেন ডাকা হয়নি? সেটা কি অসম্মান নয়? এই নিয়ে যখন কথা বলছিলেন, তখন মঞ্চে আসন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, “চন্দ্রিমা রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে কোনও মন্তব্য করবে না। যা বলার আমি দু-এককথায় বলব। কারণ এই বিষয়টা নিয়ে মিস ক্যালকুলেশন, মিস ইন্টারপিটেশন হচ্ছে!” কিন্তু ধরনা মঞ্চের বাইরে বিধায়ক সুপ্তি পাণ্ডে হঠাৎ করেই রাষ্ট্রপতিকে ‘ধিক্কার’ জানিয়ে বসলেন।
আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার উত্তরবঙ্গে যান রাষ্ট্রপতি। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা কোনো রাজ্য মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। অনুষ্ঠানস্থল শেষ মুহূর্তে বদলে দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি এলে প্রোটোকল অনুযায়ী রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের থাকা উচিত। সেটা না হওয়াতেই বিরোধী শিবির বিজেপি রাষ্ট্রপতিকে অসম্মানের অভিযোগ তুলছে। এই নিয়ে মুখ খুলছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “এক আদিবাসী রাষ্ট্রপতিকে অপমান, তৃণমূলকে ক্ষমা করবে না দেশ।” ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল বদল ও প্রোটোকল বিতর্কে রিপোর্ট তলব করেছে কেন্দ্র। মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।