Abhishek Banerjee: ‘আমি ইস্তফা দিয়ে দিচ্ছি…’, বিদ্রোহী তৃণমূলীদের বড় চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

TMC MP Abhishek Banerjee: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের রেজাল্ট বেরিয়েছিল ৪ মে। ক্ষমতা হরায় তৃণমূল। এরপরই সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়তে শুরু করেন চুনোপুটি থেকে তাবড় নেতারা। কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কুড়ি জন সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকের পর যোগ দেন NCPI-তে। অন্যদিকে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা আবার এক ধাপ এগিয়ে নিজেদের 'আসল' তৃণমূল বলে দাবি করেন।

Abhishek Banerjee: আমি ইস্তফা দিয়ে দিচ্ছি..., বিদ্রোহী তৃণমূলীদের বড় চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি বিদ্রোহীদেরImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: অবন্তিকা প্রামাণিক

Jul 18, 2026 | 6:39 PM

কলকাতা: তিনিই যদি কারণ হয়ে থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল দলের থেকে দূরত্ব তৈরি করে ঋতব্রত শিবির বা NCPI-তে সামিল হওয়ার, তাহলে তিনি পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। কালীঘাট ছেড়ে চলে যাওয়া কোনও নেতা যদি ফিরে আসেন তাহলে এক ঘণ্টার মধ্যে তিনি পদত্যাগ করে দেবেন। ঠিক এই ভাষাতেই শনিবার কুণাল ঘোষেকে পাশে নিয়ে বিদ্রোহী তৃণমূলীদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের রেজাল্ট বেরিয়েছিল ৪ মে। ক্ষমতা হরায় তৃণমূল। এরপরই সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়তে শুরু করেন নানা স্তরের জনপ্রতিনিধি ও একদা মমতার বলয়ে থাকা তাবড় নেতারা। কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কুড়ি জন সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকের পর যোগ দেন NCPI-তে। অন্যদিকে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা আবার এক ধাপ এগিয়ে নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করেন। তৈরি করেন ‘নব তৃণমূল ব্লক’। পরে যত সময় এগোয় দেখা যায় এক সময়ের মমতার ভরসার প্রায় সব পাত্র-পাত্রীরা দলে দলে গিয়ে ভেড়েন সেই ঋত-তৃণমূলে। কিন্তু এদের সকলের মধ্যেই একটি জিনিসই খুব ‘কমন’ ছিল। প্রত্যেকেই মমতার সঙ্গ ছাড়ার আগে বিস্তর ক্ষোভ উগরেছেন অভিষেকের বিরুদ্ধে। কেউ বলেছেন, অভিষেক দলকে হারিয়েছেন। আবার কেউ বলছেন, অভিষেক ও আইপ্যাকের জন্য দল শেষ হয়েছে। কারও আবার মত, এই অভিষেকের বিরাট ঔদ্ধ্ত্য। তাঁরা সুপ্রিমো মমতার সঙ্গে দেখা করতে পারতেন না ইত্যাদি ইত্যাদি। এক কথায় সব বিদ্রোহীদের ‘কমন টার্গেট’ ছিলেন অভিষেক।

এতদিন পর সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বিদ্রোহীদের দিলেন বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলে বসলেন, “আপনাদের মধ্যে কেউ একজন ফিরে আসুন। আমি ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দেব।” তাঁর সংযোজন, “যাঁদের সমস্যা রয়েছে তাঁদের বলছি, ওঁরা বলছে হারের দায় আমার। তাহলে যখন দল জিতেছিল তার দায়ও আমারই হয়েছিল। আমায় নিয়ে যাঁদের সমস্যা তাঁদের বলছি। মানুষ বোকা নয়। আজ ১৮ তারিখ, আপনি ১৯ তারিখ, ২০ তারিখ যেদিন আসার আসুন। আজ চলে আসুন। আপনারা ফিরুন আমি ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেব।”

এরপরই অভিষেক আরও যোগ করেন, “আসলে এরা কেউ ফিরবে না। ডিল হচ্ছে, ওদিকে যাও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গালাগালি দাও। তোমায় বাঁচিয়ে রাখব। ইডি-সিবিআই কেউ ধরবে না। এরা হয় পুলিশের কাছে ধৃত, না হয় ঋতব্রত।”

উল্লেখ্য, ছাব্বিশে তৃণমূলের বিধানসভা নির্বাচনে চরম পরাজয়ের পর দলের একটা বিরাট অংশ অভিষককে নিয়ে অভিযোগ-আপত্তি জানালেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাইপো তথা দলের সাধারণ সম্পাদকের পাশে থাকারই বার্তা দিয়ে গিয়েছেন। আর সেই জন্য মমতাকেও নিশানা করতে দেখা গিয়েছে ঋত শিবির বা NCPI-তে সামিল হওয়া বিধায়ক-সাংসদ-নেতা-নেত্রীদের। এই পরিস্থিতিতে এতদিন একপাক্ষিকভাবে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শনিবার বিকেলে নিজের পদত্যাগের শর্তে এবার পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন অভিষেক স্বয়ং। এখন দেখার একুশে জুলাইয়ের প্রাক্কালে অভিষেকের এহেন চ্যালেঞ্জে তৃণমূল রাজনীতির সমীকরণ বা শিবির বদলাবদলি নতুন কোনও মাত্রা পায় কি না।

 

Follow Us