
কলকাতা: স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গ লবিই কি নতুন মোড়কে সামনে এসেছে? তৃণমূলের নতুন সংগঠন আত্মপ্রকাশ করার পরই উঠতে শুরু করল প্রশ্ন। সোমবার প্রোগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের (পিএইচএ) সদস্যদের নাম সামনে এসেছে। নতুন এই সংগঠনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তালিকা দেখে এমনই মত বিরোধী চিকিৎসক সংগঠনগুলির।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তৃণমূলের একটি সংগঠন ছিলই। প্রোগ্রেসিভ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন নামে ওই সংগঠন আরজি কর পর্বের মোকাবিলা ঠিকমতো করতে পারেনি বলে মনে করেন রাজ্যের শাসকদলের নেতৃত্ব। গতকাল নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশের পর একই সুর শোনা গিয়েছে পিএইচএ-র প্রেসিডেন্ট শশী পাঁজার কণ্ঠে। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন এই সংগঠনের সঙ্গে তৃণমূলের আগের সংগঠন মিশে যাবে।
আরজি কর পর্বে সন্দীপ ঘোষের মেন্টর হিসাবে বারবার বিরোধীদের নিশানা হয়েছেন চিকিৎসক সুদীপ্ত রায়, সুশান্ত রায়। গতকাল দু’জনের কেউ সাংবাদিক বৈঠকে হাজির ছিলেন না ঠিকই। তবে সংগঠনের এগজিকিউটিভ মেম্বার হিসাবে রয়েছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের সহ-সভাপতি সুশান্ত রায়। তাঁর ছেলে সৌত্রিক রায় গতকাল প্রেস ক্লাবে হাজির ছিলেন। তিনিও কমিটির সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়েছেন।
মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায় নিজে নতুন সংগঠনের এগজিকিউটিভ বডি’তে না থাকলেও তাঁর দুই কন্যা শিল্পা বসু রায়, সুবেশা বসু রায় কমিটিতে রয়েছেন। সন্দীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ আরজি করের চিকিৎসক দীপাঞ্জন হালদার রয়েছেন কমিটিতে। নতুন এই সংগঠনের সম্পাদক করবী বড়ালের উত্তরবঙ্গ লবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও সর্বজনবিদিত।
এর আগে তৃণমূলের চিকিৎসক সংগঠনের কার্যকলাপে দলের রাজনীতিক-বিধায়কদের ঘোষিত কোনও ভূমিকা ছিল না। এবার ডক্টর মানস ভুঁইয়া, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের উপদেষ্টা কমিটিতে আনা হয়েছে। নতুন কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন বিধায়ক-চিকিৎসক নির্মল মাজি। আইএমএ রাজ্য শাখার নির্বাচনী প্রস্তুতি বৈঠকে শান্তনু অনুগামীদের হাতে বাধা পাওয়া তাপস চক্রবর্তী, জয়া মজুমদারও কমিটিতে আছেন। নতুন সংগঠন PHA-র সদস্য হয়েছেন যোগ কাউন্সিলের সভাপতি তুষার শীল। তবে নতুন সংগঠনে নেই রাজ্যসভার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা চিকিৎসক শান্তনু সেন। আরজি কর পর্বে বিভিন্ন সময় সরব হয়েছিলেন তিনি।
তৃণমূলের এই নতুন সংগঠন নিয়ে আইএমএ বঙ্গীয় শাখার যুগ্ম সম্পাদক চিকিৎক রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “পিএইচএ-র নেতৃত্বে যিনি রয়েছেন, সেই শশী পাঁজা সর্বজনগ্রাহ্য। কিন্তু, এই সংগঠনে উত্তরবঙ্গ লবির অনেককে দেখা গেল। ছদ্মবেশী কিছু লোকজনকে দেখা গেল, যাঁরা উত্তরবঙ্গ লবির খুব কাছের লোকজন। ক্লাসের মনিটর অর্থাৎ শশী পাঁজা ভাল হলেও পুরো ক্লাসটা যদি ফেল করা ছাত্রদের নিয়ে হয়, তাহলে তাদের দিয়ে কখনই ভাল রেজাল্ট হয় না।”