
কলকাতা ও নয়াদিল্লি: একমাসেই বদলে গিয়েছে তৃণমূলের অন্দরমহল। বিধানসভায় ভেঙেছে তৃণমূল। ‘ভারী’ হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘নব তৃণমূল ব্লক’। এবার লোকসভায়ও সেই ছবি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লোকসভায় ‘বিক্ষুব্ধ’ তৃণমূল সাংসদদের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সূত্রের খবর, সোমবারই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি নিয়ে পৌঁছে যাবেন কাকলিরা। কিন্তু, বারাসতের সাংসদের সঙ্গে আর কে কে রয়েছেন? এই নিয়ে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। সামনে আসছে বেশ কয়েকটি নাম। কারা তাঁরা?
সোমবার ইন্ডি জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে থাকবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে থাকার কথা তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর ওইদিনই লোকসভায় তৃণমূলের ফাটলের ছবি স্পষ্ট হতে পারে। অভিষেককে দলনেতা মানতে না চেয়ে ওম বিড়লাকে চিঠি দিতে পারেন কাকলিরা।
কাকলির সঙ্গে কে কে থাকতে পারেন?
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ২৯টি আসনে জিতেছিল তৃণমূল। তবে বসিরহাটের সাংসদ শেখ হাজি নুরুল ইসলামের মৃত্যুর জেরে ওই আসনটি খালি রয়েছে। ফলে এখন লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ রয়েছেন ২৮ জন। দলত্যাগ বিরোধী আইনে যাতে ‘বিক্ষুব্ধ’ সাংসদরা না পড়েন, সেজন্য দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদকে একজোট করার চেষ্টা চলছে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের একাধিক সাংসদ গোপনে ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছেন দিল্লিতে। যাঁর মধ্যে রয়েছেন পার্থ ভৌমিক, অসিত মাল, ইউসুফ পাঠান। জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াও বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। রয়েছেন একাধিক সেলিব্রিটি সাংসদ।
সূত্রের খবর, তৃণমূলের সেলিব্রিটি সাংসদরা আগে থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছিলেন। এবার তাঁরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এতদিন যাঁরা মমতার গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাঁরাই তৃণমূল সুপ্রিমোর হাত ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন। ইতিমধ্যে সরব হয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি। ঋতব্রতর মতো লোকসভায় বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ও সরব হয়েছেন। আরও সাংসদ দিল্লিতে পৌঁছে যাবেন। সবমিলিয়ে সংখ্যাটা ১৮ জন হতে পারে। তাঁরা ওম বিড়লার কাছে চিঠি দেওয়ার আগে বৈঠক করবেন। লোকসভায় তৃণমূলের নতুন ব্লকের নেতা কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
তবে লোকসভায় তৃণমূল সাংসদদের এই বিক্ষোভ নিয়ে ঋতব্রত অবশ্য দাবি করলেন, কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। ফলে এই নিয়ে তিনি কিছু জানেন না। আবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই নিয়ে জানালেন, তাঁদের দলের তরফে তৃণমূলের কারও সঙ্গেই কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। এবার দেখার, সোমবার সত্যিই তৃণমূলের লোকসভার সাংসদদের মধ্যে ভাঙন দেখা যায় কি না।