
কলকাতা: বেনিয়ম তথা বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। তারপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সূত্রের খবর, লেনদেন নিয়ে সন্দেহ হওয়াতেই ওই মামলার তদন্তভার নিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এরপরই ফ্রিজ করা হল তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট। ওই তিন অ্যাকাউন্টে ৪৪০ কোটি টাকা ছিল বলে জানা গিয়েছে। বাকি অ্যাকাউন্টেও রয়েছে ইডি-র নজর।
তৃণমূল বিধায়কের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর সাইবার থানা তদন্ত শুরু করেছিল প্রথমে। পরে ইডি তদন্তভার নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। সূত্রের খবর,
কাটমানির টাকা সহ আরও বেশ কিছু টাকার বেআইনি লেনদেনের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। তাই এই সিদ্ধান্ত।
তৃণমূলের দলীয় তহবিলের টাকা রয়েছে মোট ১৯টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। সেগুলির মধ্যে ৩টি অ্যাকাউন্টেই ছিল ৪৪০ কোটি টাকা। আপাতত আতসকাচের নীচে রয়েছে সেই সবকটি অ্য়াকাউন্টই।
মঙ্গলবার সকালে তৃণমূলের তহবিল সংক্রান্ত মামলায় শহরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ নামে এক সংস্থার অফিস ও সংস্থার ডিরেক্টরের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। অভিযোগ, ওই সংস্থার অ্যাকাউন্টে তৃণমূলের তহবিল থেকে ১৬০ কোটি টাকা গিয়েছিল। সেই টাকায় কেনা হয়েছিল একটি ছোট বিমান ও একটি হেলিকপ্টার। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, পরে আবার সেই বিমান ও হেলিকপ্টারই ভাড়া নিয়ে চড়তেন অভিষেক। প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূলের টাকা কি এভাবেই ঘুরিয়ে সাইফন করা হত?
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় অন্যান্য অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দেওয়ার আর্জি নিয়ে আদালতের হাজির হয় তৃণমূল। তৃণমূলের অভিযোগ, প্রথমে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল, এখন সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে। অতিরিক্ত হলফনামা দিয়ে জানাল তৃণমূল কংগ্রেস।
অন্যদিকে, বিচারপতি সুব্রত তালুকদার বিশেষ অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয় সব পক্ষের মত চাইল আদালতে। ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, তারা তিনটি অ্যাকাউন্টের উপর ভিত্তি করেই হলফনামা দিয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি রয়েছে।