Potato Crisis: যুব সাথীতে বেকাররা পাচ্ছেন ১৫০০, আলু চাষ করে চাষি পাচ্ছেন ২০০০! দেখুন অঙ্কটা

Potato Crisis: আলু চাষিদের সঙ্গে কথা বলে যা জানা যাচ্ছে, তা সত্যিই হতাশাজনক। তিন মাস ধরে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করার পর সরকার চাষিদের লাভ দিচ্ছে ২০০০ টাকা। তাতেই বাড়ছে জটিলতা। যেখানে এখন রাজ্য সরকার যুব সাথী প্রকল্পে ১৫০০ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে, লক্ষ্মীর ভান্ডারে টাকা পান ২০০০, সেখানে তিন মাস পকেট থেকে হাজার চল্লিশেক টাকা খরচের পর চাষিরা ঘরে আনতে পারছেন কেবল ২০০০ টাকা!

Potato Crisis: যুব সাথীতে বেকাররা পাচ্ছেন ১৫০০, আলু চাষ করে চাষি পাচ্ছেন ২০০০! দেখুন অঙ্কটা
কোন অঙ্কে মাত্র ২০০০ টাকা পাচ্ছেন আলু চাষিরা? Image Credit source: Meta AI

Mar 16, 2026 | 5:42 PM

কলকাতা: নজিরবিহীন সঙ্কট আলু চাষিরা। চন্দ্রকোণা, গলসির পর গোঘাট। রাজ্যে একের পর এক আলু চাষির অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর আসছে। পরিবারের দাবি, সঠিক দাম না পেয়ে ঋণের দায়ে আত্মঘাতী হচ্ছেন আলু চাষিরা। কিন্তু কেন এই সঙ্কট? ঠিক কোন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আলু চাষিদের সঙ্গে কথা বলে যা জানা যাচ্ছে, তা সত্যিই হতাশাজনক। তিন মাস ধরে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করার পর সরকার চাষিদের লাভ দিচ্ছে ২০০০ টাকা। তাতেই বাড়ছে জটিলতা। যেখানে এখন রাজ্য সরকার যুব সাথী প্রকল্পে ১৫০০ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে, লক্ষ্মীর ভান্ডারে টাকা পান ২০০০, সেখানে তিন মাস পকেট থেকে হাজার চল্লিশেক টাকা খরচের পর চাষিরা ঘরে আনতে পারছেন কেবল ২০০০ টাকা!

হুগলিতে আলু চাষের পরিমাণ

হুগলিতে চাষ উপযোগী জমির পরিমাণ ২ লক্ষ ১০ হাজার হেক্টর জমি। যার মধ্যে ধান উৎপাদনের জন্য উপযোগী জমির পরিমাণ ১লক্ষ ৯০ হাজার হেক্টর, আলু উৎপাদনের জন্য উপযোগী জমির পরিমাণ ৯০ হাজার হেক্টর এবং বিভিন্ন ধরণের সবজি উৎপাদন হয় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে।

বস্তা খাচ্ছে লাভের গুঁড়

এবছর আলু চাষে বিঘা প্রতি খরচ পড়েছে ৩৫ হাজার টাকার উপর। বিঘা প্রতি আলু উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮০ বস্তা (৫০ কেজি)। রাজ্য সরকার আলুর সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করেছে ৪৭৫ টাকা (৫০ কেজি)।
হিসাব অনুযায়ী সরাকরি সহায়ক মূল্যে চাষিরা আলু বিক্রি করলে হাজার দুয়েক টাকা লাভ দেখতে পাবেন কিন্তু সামন্য সেই লাভের গুঁড় খেয়ে নিচ্ছেন বস্তা ব্যবসায়ীরা। বস্তার দাম ১১ টাকা বেড়ে হয়েছে কুড়ি টাকা, এক বিঘা জমির আলুর জন্য বস্তা কিনতে চলে যাচ্ছে ১৬০০ টাকায়। তাহলে সরকারি মূল্যে আলু বিক্রি করলে লাভ কী আদাও থাকছে।

বস্তা প্রতি উঠছে না আলুর দাম

যদিও ১ লা মার্চ থেকে সহায়ক মূল্যে আলু কেনার কথা থাকলেও দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আলু কেনার কোনও তোড়জোড় নেই সরকারের। অন্যদিকে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আলু কিনতে চাইছেন না ব্যবসায়ীরা।ফলে বর্তমানে আলুর দাম বস্তা প্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকার উপর উঠছে না।
এক প্রকার বর্তমানে চাষিদের অবস্থা একেবারে নাজেহাল।

৪৭৫ টাকা প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) দাম নির্ধারণ করেছে রাজ্য। বর্তমানে খোলা বাজারে আলুর দাম ১৫০ টাকা থেকে ২২০ টাকার মধ্যে ওঠা নামা করলেও, চাষিদের থেকে আলু কেনার ব্যপারে অনীহা আলু ব্যবসায়ীরাদের। ফলে মহা ফাঁপরে চাষিরা।

 

এক নজরে হিসাব…

রাজ্য হিম ঘর থেকে আলু কিনবে, সেটা চুক্তিবদ্ধ

চাষি প্রতি ৭০ বস্তা আলু কিনবে রাজ্য। বাকি আলু কী হবে, তার উত্তর অজানা।

এক বস্তা (৫০ কেজি) আলু উৎপাদনে চাষির খরচ প্রায় ৩৭৫ টাকা। মাঠ থেকে আলু বাছাই, প্যাকেট করে হিম ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে খরচ ৭৫ টাকা।

অর্থাৎ এক বস্তা আলু উৎপাদন এবং হিমঘর পযন্ত পৌঁছে দিতে চাষির খরচ পড়ছে ৪৫০ টাকা

আর সরকারি সহায়ক মূল্য ৪৭৫ টাকা।

বস্তা প্রতি চাষিদের লাভ ২৫ টাকা।

বিঘা প্রতি লাভ হতে পারে ২০০০ টাকা।

তিন মাস ধরে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করার পর সরকার চাষিদের লাভ দিচ্ছে ২০০০ টাকা। তাতেই বাড়ছে জটিলতা

কী বলছেন চাষিরা?

এক জন আলু চাষি বললেন, “সরকার তো এত ভাতা দেয়। কিন্তু আমরা আলু দামটা পাই কোথায়? ২০০০ টাকা লাভ! এই ২০০০ টাকায় হয়টা কী? একজন বেকার এখন ঘরে বসে মাসে মাসে দেড় হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। লক্ষ্মীর ভান্ডারে এক-একটা পরিবারেই কত টাকা করে ঢুকছে ভাবুন। কিন্তু যে মূল্যে সরকার আলু কিনছে, তাতে বস্তা প্রতি আমাদের লাভ থাকে ২৫ টাকা! বুঝতে পারছেন সমস্যাটা কোথায়?”

তাঁর পাশেই বসে ছিলেন আরেক চাষি, আগের কথার রেশ ধরেই বললেন, “মাথার ঘাম ফেলে, ঘরের সর্বস্ব দিয়ে, বউটাকে বুঝিয়ে গয়না বন্ধক রেখে আমরা চাষবাস করছি! সেখানেই এই লাভ নিয়ে আদৌ বাড়িতে গিয়ে কী মুখ দেখাব!”

বিজেপির বক্তব্য

রাজ্যে এইভাবে একের পর এক আলু চাষিদের মৃত্যুকে রাজ্য সরকারকেও কাঠগোড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বিরোধীরা। বিজেপি মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এতদিন ওরা রোজ অস্বাভাবিক মৃত্যুর তালিকা খুঁজছিল। যেখানে মৃত্যু দেখলেই এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু বলত। কিন্তু চাষিদের মৃত্য়ু দেখতে পাচ্ছে না। আলুর রফতানি নিয়ে সরকারের যে নীতি, তার কারণেই এই সমস্যা। আলু বাইরে বিক্রি করতে না পারলেও দাম পড়ে যায়, তার সঙ্গে মহাজনীদের কারবার তো রয়েছেই।”

তৃণমূলের বক্তব্য

যদিও তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, “ভারতের কোথাও কোনও কৃষকের মৃত্যু হলে, তার দায় কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির। আলু বাইরে পাঠালে, বাংলার বাজারে চাপ সৃষ্টি হবে। উপযুক্ত দাম দিয়ে আলু সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

Follow Us