
কলকাতা: শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা। যে কোনও মুহূর্তে ঘোষণা হতে পারে দিনক্ষণ। তার আগেই রাজ্যে নির্বাচন পরিচালনায় বড়সড় রদবদল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। রাজ্যে এই প্রথমবার অন্যান্য রাজ্যের মতো রিটার্নিং অফিসার পদে জেলাশাসকদের বদলে মহকুমা শাসক বা সমমর্যাদার আধিকারিকদের এই পদে নিয়োগ করল কমিশন।
ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতেই রাজ্যের সবকটি অর্থাৎ ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্যই মহকুমা শাসক বা তার উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করে একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এসডিএম-দেরই এই পদে নিয়োগের কথা। কিন্তু বিগত নির্বাচনগুলিতে রাজ্যের অনুরোধ মেনে জেলাশাসকদেরই রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেছিল কমিশন। তবে এবার আর নিয়মের কোনও ব্যতিক্রম যে হবে না তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল কমিশন।
সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও সাফ বলেছিলেন ভোটের সময় রাজ্যে কোনওরকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। সেই লক্ষ্যেই এবার নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে বাড়তি জোর দিল কমিশন। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে নিয়মের বাইরে গিয়ে যে একটিও কাজ হবে না, তা পদে পদে বুঝিয়ে দিচ্ছে কমিশন। এর আগে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজেও উচ্চপদস্থ অফিসার নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে কমিশনের চূড়ান্ত সংঘাত প্রকাশ্যে আসে। এমনকি পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, শেষ পর্যন্ত বাইরের রাজ্য থেকে মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়ে এসে কাজ করাতে হয়েছিল কমিশনকে। তাই এবার প্রথম থেকেই একেবারে নিয়ম মেনে কড়া হাতে রাশ ধরতে চাইছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।