
কলকাতা: ফের ভুয়ো কলসেন্টারের হদিশ মিলল সেক্টর ফাইভে। এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। অভিযোগ, বিদেশি নাগরিকদের টেক সাপোর্ট দেওয়ার নামে প্রতারণা করা হত এই কলসেন্টার থেকে। বলা হত আন্তর্জাতিক কলসেন্টার। অভিযোগ, পরে দেখা যায় এই কলসেন্টারের আড়ালে চলত অন্য কাজ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় সেক্টর ফাইভের ডিএন ব্লকের ওই ভবনে হানা দেয় সিআইডি।
সিআইডি সূত্রে খবর, সল্টলেক সেক্টর ফাইভের ডিএন ব্লকের ৫১ নম্বর মারলিন ইনফিনিটি বিল্ডিংয়ে এদিন সন্ধ্যায় হানা দেয় সিআইডি। ষষ্ঠতলে একটি ঘরে হানা দিয়ে দেখে সেখানে সারি সারি কম্পিউটার সাজানো। কলসেন্টারের কাজ চলছে। অচেনা মুখ দেখেই হকচকিয়ে যান কর্মীরা। দীর্ঘক্ষণ সেখানে তল্লাশি ও উপস্থিত কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা।
সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘক্ষণ অভিযান চললেও কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এরপরই সিআইডি আধিকারিকরা ওই কলসেন্টার থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেন বলে সূত্রের খবর। জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে, বিদেশী নাগরিকদের টেক সাপোর্ট দেওয়ার নাম করে প্রতারণা করা হত। এই অফিস থেকে প্রচুর পরিমাণে হার্ড ডিস্ক, প্রতারিত বিদেশি নাগরিকদের নামের তালিকা, বেশ কিছু আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ, এই ঘটনার মাথা শাহরুখ মহম্মদ নামে এক ব্যক্তি। তাঁকেও গ্রেফতার করেছে সিআইডি। ধৃতদের শনিবার বিধাননগর আদালতে তোলা হবে।
কিছুদিন আগেই সেক্টর ফাইভের আরও একটি অফিসে হানা দেয় সিআইডি। ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার আওতাধীন একিউসিক্স বিল্ডিংয়ের দোতলায় ওই অফিসে হানা দেন তদন্তকারীরা। জাফর, ইব্রাহিম, বাদশা-সহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথি, একটি ল্যাপটপ ও বিদেশি গ্রাহকদের নামের তালিকা উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। সঙ্গে দু’টি কম্পিউটার ও একটি রেজিস্ট্রার উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে নিউটাউন থানার পুলিশ ও ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পুলিশ একাধিক ভুয়ো কলসেন্টারের পর্দা ফাঁস করেছে। গ্রেফতারির পাশাপাশি বিভিন্ন নথিও উদ্ধার হয়েছে। এবার সিআইডির নজরে শহরের তথ্য প্রযুক্তি হাব।