
কলকাতা: রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত এবার চরমে উঠেছে। রাজ্যের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে কী চলছে, সেই বিষয়ে খোঁজখবর নিতে সম্প্রতি রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সিভি আনন্দ বোস বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তা নিয়ে ফের নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে বাংলার শিক্ষা মহলে। কেন হঠাৎ এমন একটি নির্দেশ দিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য? টিভি নাইন বাংলায় একান্ত সাক্ষাৎকারে এবার সেই বিষয়টি খোলসা করলেন রাজ্যপাল।
শিক্ষা দফতর থেকে বলা হচ্ছে, রাজ্যপাল যে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, সেই নির্দেশের কপি কোথায়? আজ সেই নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও কড়া জবাব দেন রাজ্যপাল বোস। আচার্য তথা রাজ্যপালের কথায়, ‘নির্দেশের কপি তারা পেয়ে যাবে। আমি কোনও কপিক্যাট রাজ্যপাল নই। যেখান থেকে কপি পাঠানোর, সেখান থেকে তাদের কাছে কপি পৌঁছে যাবে। এটা একটা ওপেন অর্ডার, সেটা তাদের কাছে পৌঁছে যাবে।’ রাজ্যপালের বক্তব্য, বিভিন্ন সূত্র মারফত তাঁর কাছে অভিযোগ এসেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হিংসা ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ প্রসঙ্গে। বোস বললেন, ‘এটাকে বলা হচ্ছে ক্যাম্পাস ক্যানিবালিজ়ম। এই কথাটা আমি বলছি না, যে শিক্ষাবিদরা আমার কাছে লিখিত জানিয়েছেন, তাঁরা বলছেন।’ পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে র্যাগিংয়ের উদ্বেগ বাড়ছে, সে কথাও উঠে আসে আচার্যের কথায়।
রাজ্যপালের স্পষ্ট কথা, সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব তাকে আচার্যের হাতেই। তিনি বলেন, ‘বাংলার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আমি হিংসা ও চাপ তৈরির চেষ্টা দেখতে পাচ্ছি। দুর্নীতির অভিযোগও আসছে। এসব কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই এই অভিযোগগুলির সত্যতা জানতে আমি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।’