
কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর বেশিরভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের দেখা যাচ্ছে না। এর জন্য় গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রাম প্রধান ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে জেলায় জেলায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
জেলায় জেলায় গিয়ে কী করবেন দিলীপ?
রাজ্যে পালাবদলের পর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজ কেমন চলছে? পঞ্চায়েত সমিতির বা কী অবস্থা? জেলা পরিষদ কেমনভাবে চলছে? বিভিন্ন প্রকল্পগুলির কী কী অবস্থা? কোথায় কত কর্মী? কত কর্মী দীর্ঘদিন একই পদে একই জায়গায় রয়েছেন? জেলায় জেলায় সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাবেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী।
জানা গিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকে দিলীপ শুরু করবেন সেই কর্মসূচি। শুরুতেই হাওড়া ও হুগলি জেলায় যাবেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। ছোট জেলার ক্ষেত্রে একদিনে দুটি জেলা পরিদর্শন করবেন মন্ত্রী। আর বড় জেলার ক্ষেত্রে একদিনে একটি জেলারই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন।
কয়েকদিন আগে বিধানসভায় দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, পঞ্চায়েতে ফাঁকা পড়ে রয়েছে বহু পদ। যার জেরে পঞ্চায়েতের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পঞ্চায়েতের কাজে গতি আনতে এবার ১১ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে বলে জানান তিনি। শুধু তাই নয়, আগে পঞ্চায়েতে নিয়োগ হত জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। এবার তা পিএসসি-র মাধ্যমে নিয়োগ হবে।
গ্রাম প্রধানদের হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলীপ বলেছিলেন, “প্রধানদের বলেছি, পরিষেবা দিতে হবে, না হলে পদত্যাগ করতে হবে। মাঝামাঝি কিছু নেই। পুলিশ দিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে এনে সই করাব। ভাতা নেবেন, সব সুযোগ সুবিধা নেবেন আর সই করবেন না। মামা বাড়ি নাকি।”
পঞ্চায়েতের কাজ সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য আর্থিক ক্ষমতা আধিকারিকদের হাতে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করে বিধানসভায় দিলীপ বলেছিলেন, “দেশের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ, যেখানে প্রধানদের আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া আছে। তাই এই নিয়ে এত হিংসা। প্রধানদের হাত থেকে এই ক্ষমতা কেড়ে নেব। বিল আনব।” বিধানসভায় ওই বার্তার পর এবার প্রত্যেক জেলায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাচ্ছেন দিলীপ।