
কলকাতা: স্কুল থেকে উপড়ে ফেলা হচ্ছে তৃণমূল রাজ। স্কুলে স্কুলে ভেঙে দেওয়া হয়েছে পরিচালন সমিতি। খবর এসেছিল সরকার বদলের ঠিক পরপরই। ঠিক হয়েছে এবার নির্বাচনের মাধ্যমে ফের স্কুলে ফিরবে পরিচালন সমিতি। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের নির্দেশ এসে পৌঁছেছে রাজ্যের কাছে। ন্যূনতম ১২ সদস্যের পরিচালন সমিতি থাকবে স্কুলে। প্রয়োজনে পরিচালন সমিতিতে থাকতে পারেন ২৫ জন সদস্য।
অন্যদিকে প্রাথমিক স্কুলের ক্ষেত্রে পরিচালন সমিতিতে থাকবেন ১৫ জন। মাধ্যমিক স্কুলের ক্ষেত্রে পরিচালন সমিতিতে থাকবেন ২০ জন। উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের ক্ষেত্রে পরিচালন সমিতিতে ২৫ জন। এই ২৫ জনের মধ্যে ১৮ জনই থাকবেন অভিভাবক। ২ জন থাকবেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিদ্ধান্ত নেবে স্থানীয় প্রশাসন। বাকিদের তালিকায় থাকবেন থাকবেন স্থানীয় শিক্ষাবিদরা। এই সিদ্ধান্তেই আশার আলো দেখছেন শিক্ষক সংগঠনের নেতারা। তাঁরা বলছেন, এতে অনেকাংশ রাজনীতি মুক্ত পরিচালন সমিতি তৈরি সম্ভব হবে। অভিভাবকদেরও ক্ষমতায়ন হবে।
অভিভাবকই হবেন চেয়ারপার্সন। আরও এক অভিভাবক হবেন ভাইস চেয়ারপার্সন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক হবেন সদস্য সচিব। প্রত্যেককেই নির্বাচিত হতে হবে।
পরিচালন সমিতির মেয়াদ হবে ২ বছর। প্রধান শিক্ষক ছাড়া কোনও ব্যক্তি টানা দুটো টার্মে সমিতিতে থাকতে পারবেন না। প্রত্যেক মাসে বৈঠক করতে হবে পরিচালন সমিতিকে। বছরে একবার অভিভাবকদের নিয়ে বার্ষিক বৈঠক করতে হবে। শিক্ষাবর্ষ শুরুর এক মাসের মধ্যে গঠন করতে হবে পরিচালন সমিতি।
প্রধান শিক্ষক সংগঠনের নেতা চন্দন মাইতি বলছেন, “জাতীয় শিক্ষা নীতিকে সামনে রেখে সবটা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। যে ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তা অতি দ্রুত রূপায়নের জন্য আবেদন জানাই। যে সমস্যা এতদিন ছিল তা মিটে যাক আমরা চাই।”
শিক্ষক সংগঠনের নেতা স্বপন মণ্ডল বলছেন, “জাতীয় শিক্ষা নীতি চালু হলে সবার আগে পরিচালন সমিতিতে ছাপ পড়বে। আগে সরকার নিজেদের লোকেদের নিয়োগ করতেন। রাজনীতির লোকেরা থাকতো। কিন্তু নতুন শিক্ষানীতিতে বলা হচ্ছে পরিচালন সমিতিতে ৭৫ শতাংশই অভিভাবকরা থাকবেন। তাঁদের মধ্যে থেকেই একজন প্রেসিডেন্ট হবেন। প্রধান শিক্ষকেরও গুরুত্ব থাকবে। তৃণমূল সরকারের আমলে যে কমিটি হতো সেগুলো আসলে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য তৈরি করা হতো। এখন যেটা হতে চলেছে ভালই হবে।” শিক্ষক সংগঠনের নেতা কিংকর অধিকারীও বলছেন, “এই কমিটিগুলিতে যেন কোনওভাবেই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না ঘটে। তাহলে কিন্তু কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আসল উদ্দেশ্য হারিয়ে যাবে। বাইরের কোনও ব্যক্তি যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি না করতে পারে দেখতে হবে।”