
কলকাতা: ‘তৃণমূল শিক্ষাকে গভীর খাদে নিয়ে চলে গিয়েছে। ভিতরে ঢুকে দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ চিত্র।’ টিভি৯ বাংলার ম্যানেজিং এডিটর অমৃতাংশু ভট্টাচার্যের বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসে অকপটেই বললেন রাজ্যের নতুন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ, কলেজে ভর্তি থেকে বিশ্ববিদ্য়ালয়, তৃণমূল জমনায় বারবার উঠেছে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ। পাহাড় প্রমাণ নিয়োগ দুর্নীতির বোঝা কাঁধে নিয়ে বাংলার প্রশাসন থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তৃণমূলকে। এবার ডাবল ইঞ্জিনের গতিতে ছুটে রাজ্য। আর এই পালাবদলের আবহেই শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হিসাবে ধরা দিলেন জগন্নাথ। তাঁর স্পষ্ট কথা, “শিক্ষা ব্যবস্থার যে পরিস্থিতি গত ১৫ বছরে তৈরি হয়েছে তা থেকে আবার ঠিক জায়গায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে যাব। কাজে গতি আনার চেষ্টা করব।”
এখনও যে প্রশাসনের বহু স্তরেই দুর্নীতির ঘুনপোকা বিদায় নেয়নি তাও বললেন অকপটে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে জগন্নাথ বলেন, “ভিতরে ঢুকে দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ চিত্র। আগের সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি স্কুল সার্ভিস কমিশনের স্ক্যাম। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ, সিবিআইয়ের চার্জশিট সব হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে স্কুল সার্ভিস কমিশনের যে কর্মচারিদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ সহ সিবিআই চার্জশিট দিয়েছে তাঁরা এখনও কমিশনে কর্মরত। কেউ জানতো না। আমাদের গোচরে আজ এসেছে। আমরা অ্যাকশন নেওয়ার কথা বলেছি। এইভাবেই আগের সরকারটা চলতো।”
এরপরেই দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের অঙ্গীকার নিয়ে জগন্নাথ বলেন, “ঘুষমুক্ত চাকরির সঙ্গে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ নিয়োগ আমরা করব। নিয়মিত নিয়োগ করা হবে। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য় যা করার দরকার তা করা হবে। আমারা যদি ক্রুটি মুক্ত নিয়োগ না করতে পারি তাহলে কিসের সরকার চালাচ্ছি আমরা? ৫ বছর পর মানুষ কেন আমাদের ভোট দেবে?” তবে খানিক সাবধানবাণী দিয়েই শেষে বললেন, “এই বাজারেও কিছু ঘুঘু চেষ্টা করছে নিজের লোক ঢুকিয়ে দেওয়ার। আমাদের নীতি প্রথমে বিনির্মাণ তারপর পুনর্নিমাণ। চোরদের রেখে দিয়েছে কখনও অবস্থার বদল করা যাবে না। দুর্নীতিতে আমাদের জিরো টলারেন্স।”