
কলকাতা: প্রথমে ১০ লক্ষ, তারপর ২২ লক্ষ, তারপর ২ লক্ষ, তারপর আরও ২ লক্ষ। রবিবার রাত পর্যন্ত ৩৬ লক্ষ নাম উঠে গিয়েছে সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে। কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, ৪০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। হিসেব বলছে, এর মধ্যে ১৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেই ৮১ লক্ষের মধ্যে যাঁরা নিজেদের বৈধ ভোটার বলে প্রমাণ করতে চান, তাঁরা এখন কী করবেন? ট্রাইব্যুনাল কী, খায় না মাথায় দেয়?
হাওড়ার জগৎবল্লভপুর। ৩০৮ ও ৩০৯ নম্বর বুথ মিলিয়ে প্রায় ৮৫০ জনের বেশি মানুষের নাম এসআইআর থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ। বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ ব্লকের বরুনহাট। ৩৩ ও ৩৫ নম্বর বুথ মিলিয়ে ১২০০ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কোচবিহার শহরের ৩ নং ওয়ার্ড। ৩০০ ভোটারের নাম ডিলিট। পানিহাটির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১০ টি বুথে ৬০০ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে।
এ তো গেল কয়েকটা উদাহরণ। নতুন করে যে প্রায় ১৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, সেই সব ভোটার ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন রাজ্য়ের একাধিক জেলায়। তাঁদের এখন একটাই প্রশ্ন, কী করব? কোথায় যাব?
উত্তরটা হল, ট্রাইব্যুনাল। কী সেই ট্রাইব্যুনাল? সেটা ঘিরেই আরও একগুচ্ছ প্রশ্ন সামনে আসছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে, নাম বাদ পড়া ভোটাররা যদি নিজেদের নাম ভারতীয় ভোটার হিসেবে প্রমাণ করতে চান, তাহলে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। শীর্ষ আদালত ইতিমধ্যেই ১৯ জন বিচারপতিকে নিয়ে সেই ট্রাইব্যুনাল গঠনও করে দিয়েছে। কিন্তু সেই ট্রাইব্যুনালে কীভাবে নিজেদের ভোটার হওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করবেন?
গত এক সপ্তাহে চারটি সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ হয়ে গেলেও এতদিন ধরে এটাই ঠিক ছিল না যে কোথায় বসবে সেই ট্রাইব্যুনাল। পরে সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, রাজ্যের তরফে চারটি জায়গা দেওয়া হয়েছিল, সেই সঙ্গে রাজারহাটে হাইকোর্টের জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমিও তালিকায় রাখা হয়েছিল। হাইকোর্টের টিম ও কমিশনের আধিকারিক সেই সবকটি জায়গা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। পরিদর্শনের পর রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। হাইকোর্টের প্যানেল সিদ্ধান্ত নেয় যে কোথায় বসবে ট্রাইব্যুনাল। অবশেষে বেছে নেওয়া হয়েছে জোকা আইআইএম। সেখানেই ১৯ জন বিচারপতি বসবেন বলে জানা গিয়েছে। রবিবার থেকেই আবেদনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ এখন যদি কেউ আবেদন করতে চান, তাহলে করতে পারেন।
প্রশ্ন হল, কীভাবে আবেদন করবেন। প্রথমে ঠিক করা হয়েছিল অফলাইনে আবেদন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে কলকাতায় ট্রাইব্যুনাল বসলে জেলার বাসিন্দারা কীভাবে আবেদন করতে যাবেন, তা বুঝে ওঠা যাচ্ছিল না। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অফলাইন ও অনলাইন দুই প্রক্রিয়াতেই আবেদন করা যাবে। অফলাইনে আবেদন করতে হবে যেতে হবে জেলাশাসকের দফতরে। আর অনলাইনে আবেদন করতে ইলেকশন কমিশনের পোর্টালে লগ ইন করতে হবে।
আবেদন পাওয়ার পর কী করবেন বিচারপতিরা?
তাঁরা বিএলও ইআরও-রা যে রিপোর্ট দিয়েছে, তা যাচাই করা হবে। ঠিকানা ও বয়স সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা হবে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে। অর্থাৎ আবেদনকারী ভোটার ও বিএলও- দু তরফের কথাই শোনা হবে। এরপর ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নেবে, ওই ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য কি না। কিন্তু ভোটারদের সঙ্গে আইনজীবী রাখতে হবে কি না, এসওপি কী হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। কমিশনের কাছে নেই কোনও উত্তর। রাজনৈতিক দলগুলি এই নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ তো থাকছেই, তবে সবথেকে বড় প্রশ্ন হল, ভোটটা দেওয়া হবে কি না। চারটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় ৩৬ লক্ষ নাম প্রকাশ পেয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ৪০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে ৪৫ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রায় ১৮ লক্ষ। আগে ৬৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। সব মিলিয়ে ৮১ লক্ষ ভোটারের নাম ডিলিট। প্রথম দফা অর্থাৎ ২৩ এপ্রিলের ভোটে আজ থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়া শুরু হয়েছে। ভোটের কয়েকদিন আগেই ইলেকটোরাল রোল ফ্রিজ হয়ে যাবে। তার আগে ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া সম্ভব তো?