
কলকাতা: ২০০১ থেকে ২০২১ সাল। বেহালা পশ্চিমে প্রার্থী নিয়ে ভাবতে হয়নি তৃণমূলকে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই আসনের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। ২০০১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত এই কেন্দ্রের বিধায়ক তিনি। সেই বেহালা পশ্চিমে প্রার্থী বাছাই এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূলের। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে প্রার্থী নিয়ে নানা আলোচনা চলছে শাসকদলের অন্দরে। জানা গিয়েছে, পার্থ ‘ক্ষত’ মেটাতে বেহালা পশ্চিম আসনে রাজ্যের এক দাপুটে নেত্রীকে প্রার্থী করা নিয়ে আলোচনা চলছে।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের জুলাইয়ে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। তিন বছরের বেশি জেলে কাটিয়ে গত বছরের নভেম্বরে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন পার্থ। কিন্তু, শাসকদল তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছে। গ্রেফতারির পরই পার্থকে সাসপেন্ড করেছিল তৃণমূল। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরলেও তাঁকে নিয়ে দলের তরফে কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি।
তবে পার্থ তাঁর বিধানসভা এলাকায় নিজে জনসংযোগে নেমে পড়েছেন। দলনেত্রীর উপর ভরসা রাখছেন। কিন্তু, এবার যে তিনি তৃণমূলের টিকিট পাবেন না, তা বোধহয় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীও বুঝতে পারছেন।
শাসকদলও ওই কেন্দ্রে নতুন প্রার্থী খোঁজা শুরু করেছে। কিন্তু, গত ২৫ বছর ধরে যে কেন্দ্রে পার্থর মতো হেভিওয়েট নেতা প্রার্থী ছিলেন, সেখানে নতুন কাউকে দাঁড় করানো যে কতটা কঠিন কাজ, তা বুঝতে পারছেন শাসকদলের নেতারাও। তার উপর আবার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতো অভিযোগে সেখানকার বিধায়ককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দলের এক জনপ্রিয় মহিলাকে মুখকেই ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। ওই নেত্রী তৃণমূলের রাজ্যস্তরের দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহভাজন। বেহালা পশ্চিমে ভোট বৈতরণী পেরতে তৃণমূলের ওই দাপুটে নেত্রীই তুরুপের তাস হতে পারেন বলে মনে করছেন শাসকদলের নেতৃত্ব। এই আলোচনার মধ্যে আরও একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে, ছাব্বিশের নির্বাচনে বেহালা পশ্চিমে ২৫ বছর পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বদলে অন্য কেউ তৃণমূলের প্রতীকে প্রার্থী হতে চলেছেন। প্রার্থী বদল করে তৃণমূল বেহালা পশ্চিম আসন ধরে রাখতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।