
কলকাতা: তিনি কলকাতার মেয়র। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। গত কয়েকদিনে সেই ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি। তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী ফিরহাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত বিধানসভায় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের কোনও প্রশ্নোত্তরে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপি বিধায়করা। বুধবার বিধানসভায় রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর বক্তব্যের সময় অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান বিজেপি বিধায়করা। কিন্তু, ফিরহাদের প্রতি কেন সরব বিজেপি? গেরুয়া শিবিরের আক্রমণের মুখে কী বলছেন ফিরহাদ?
কয়েকদিন আগে একটি ধর্মীয় সভায় ফিরহাদ হাকিমের একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় ওই সভায় ফিরহাদের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই রাজ্যের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি। এদিনও একাধিকবার বিধানসভায় অধিবেশন চলাকালীন ফিরহাদের বক্তব্যের সময় বেরিয়ে আসেন বিজেপি বিধায়করা। ফিরহাদের বক্তব্য শেষ হলে ফের অধিবেশন কক্ষে ঢোকেন।
ফিরহাদের বিরুদ্ধে কেন এত সরব বিজেপি? বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ বলছেন, “এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। আমাদের দাবি, উনি নিজের মন্তব্য প্রত্যাহার করুন। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।”
বিজেপির এই বিরোধিতার মধ্যে কী বলছেন ফিরহাদ? পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভায় মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে স্থান দিয়েছেন। কোনও সদস্য যদি প্রশ্ন করেন, তাহলে উত্তর দিতে তিনি দায়বদ্ধ। এরপরই বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, “আমি ধর্মনিরপেক্ষ। ধর্মনিরপেক্ষই থাকব। ধর্মীয় সভায় কী বলেছি, তার সঙ্গে সামাজিক-রাজনৈতিক কোনও সম্পর্ক নেই। আপনাদের কিছু নেই। তাই ভাগ করতে চাইছেন।” বাংলায় বিজেপিকে শূন্য করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ফিরহাদ।
ফিরহাদের বিরুদ্ধে বিজেপির লাগাতার আক্রমণ নিয়ে রাজনীতির কারবারিদের একাংশ বলছেন, ফিরহাদ হাকিম তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা। এবং তিনি সংখ্যালঘু নেতা। পুরমন্ত্রী হওয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় তৃণমূলের সাংগঠনিক দিকটিও নিয়ন্ত্রণ করেন। আবার একটি সম্প্রদায়কে তৃণমূল তোষণ করে বলে বিজেপির অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে ফিরহাদের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে রাস্তায় নেমেছে গেরুয়া শিবির।