
কলকাতা: ভোট-পর্ব মিটতে রাজ্যের একাধিক জায়গা থেকে হিংসার খবর আসছে। তাতে যেমন বিরোধী কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠছে। তেমনই আক্রান্ত হচ্ছেন শাসকদল বিজেপির কর্মীরা। আর এই ভোট পরবর্তী হিংসার কথা বলতে গিয়েই ১২ বছর আগের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে শিউরে উঠলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বীরভূমের ইলামবাজারে তাঁদের এক কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল। আর সেই খুনের কথা বলতে গিয়েই শমীক জানালেন, পাণ্ডে নামে এক পুলিশ অফিসারকে খুঁজছেন তিনি।
কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য?
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে মুখ খোলেন শমীক। রাজ্য বিজেপির সভাপতি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, “এই নির্বাচনে বিজেপি যদি না জিতত, এতক্ষণে আমাদের ৩০০ কর্মী খুন হত।” সেকথা বলতে গিয়েই তিনি জানান, সংখ্যালঘুরাও বিজেপিকে সমর্থন করেন। কিন্তু, এতদিন তাঁদের সামনে আনেননি, কারণ তাঁদের সুরক্ষা দিতে পারতেন না। তিনি বলেন, “আগে দেখা গিয়েছে, সংখ্যালঘুরা বিজেপি করায় নৃশংস অত্যাচার করা হয়েছে।”
বিজেপির সংখ্যালঘু কর্মীদের উপর নৃশংস অত্যাচারের কথা বলতে গিয়েই ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর ইলামবাজারে বিজেপি কর্মী শেখ রহিমকে খুনের কথা তুলে ধরেন তিনি। ইলামবাজার থানার ঘুড়িষা পঞ্চায়েতের কানুর গ্রামের বাসিন্দা রহিম শেখকে ২০১৪ সালের ৭ জুন নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। ওই খুনের পর ওই গ্রামে গিয়েছিলেন শমীক।
সেই নৃশংস ঘটনার কথা বলতে গিয়ে শমীক বলেন, “তাঁর দুই মেয়েকে নগ্ন অবস্থায় রাস্তায় হাঁটানো হয়েছিল। লজ্জা নিবারণের জন্য গলা পর্যন্ত শরীর ডুবিয়ে পুকুরে বসেছিল। আর চোখের সামনে দেখেছে, বিবস্ত্র মা অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আর বাবাকে কুপিয়ে কুপিয়ে খুন করা হচ্ছে একজন পুলিশ অফিসারের সামনে। অফিসারের নাম ছিল পান্ডে। খুঁজছি ওকে আমি। সে তার রিপোর্টে লিখেছিল, ওভারপাওয়ার্ড (পরাভূত)। সেদিনটা আমার মনে রয়েছে।”
বিজেপি হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ করে না জানিয়ে শমীক আরও বলেন, “আমরা হিন্দু, মুসলমান বিভাজন করি না। যে ভারতবর্ষকে নিজের দেশ মনে করে, এই দেশের আনন্দে আনন্দিত হয়, দুঃখে দুঃখ পায়, সে আমাদের।”