
কলকাতা: ৯ জুন কালীঘাটে সিআইডি-র তল্লাশির বিষয়ে যিনি নাকি ফোন করে খোঁজ নিয়েছিলেন। সেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ই এখন নাকি বিদ্রোহের অন্যতম বড় মুখ। অমিত সাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ, ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁকে নিয়ে জল্পনা ক্রমেই তীব্র হয়েছে। এতদিন আবার দিল্লিতে সংসদীয় তৃণমূলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসাবে বরাবরই দেখা যাচ্ছিল কাকলিকে। কিন্তু এবার সুদীপ আসায় তাঁকেই কি দলনেতা হিসাবে বেছে নেবে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা? তাহলে পাকাপাকিভাবে বিদ্রোহী শিবিরে কলকাতা উত্তরের তৃণমূল সাংসদ? প্রশ্ন ঘুরছে।
এদিন দিল্লি উড়ে যাওয়ার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে এ নিয়ে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করতে দেখা যায় বিদ্রোহী শিবিরের মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। ইঙ্গিতপূর্ণভাবেই বলেন, “গত ৪-৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি যেদিকে গিয়েছিল তার বিরুদ্ধে যাঁরা মত দিচ্ছিলেন তাঁদের সঙ্গে আমাদের কথাবার্তা হয়েছিল। ধরে নিন আরও আছে। আরও ২-১ একজন আসবেন। যেটা ২০ বলেছিলাম সেটা আসলে ২২।”
তৃণমূলের সংসদীয় দলের ধারাবিবরণীতে সুদীপ নিছক একটি নাম নয়। বেশ কয়েকজনের থেকে ভারেও অনেকটাই বেশি। তৃণমূলের শুরুর দিকে যে কয়েকজন একেবারে মমতার ছায়াসঙ্গী ছিলেন তাঁদেরই অন্যতম সুদীপ। দীর্ঘদিন লোকসভার দলনেতা থেকেছেন। কয়েক মাস আগে অবশ্য মমতা প্রবীণ সাংসদকে সরিয়ে অভিষেককে দায়িত্ব দেন। সুদীপ পত্নী নয়নাকে এবার বিধানসভায় তৃণমূলের ডেপুটি লিডার করে মমতা। সেই সুদীপই কিনা দিল্লিতে গিয়ে অভ্যুত্থানে মিশে গেলেন? সুদীপ এন্ট্রি নেওয়ায় ওজনের বিচারে দলনেতা হতে আর পারবেন কাকলি?
কাকলি যদিও বলছেন, “সবাই মিলে বসে যেটা সিদ্ধান্ত হবে সেটাই গ্রহণ করা হবে। এখানে আমরা সবাই রাজা আমাদের রাজার রাজত্বে। এখানে সবার মতেরই একটা প্রাধান্য দেওয়া হবে। ইট উল বি নট বাই ডিক্টেটর, ইট উইল বি বাই ডিসকাসন। সবাই মিলে আলোচনা করে যা ঠিক হবে সেটাই হবে।” প্রসঙ্গত, এদিনই আবার দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কাঁথির বাড়ি থেকে সোজা কলকাতা বিমানবন্দর, সেখান থেকে দুপুরে পৌঁছাবেন দিল্লি। এদিনই আবার তাঁর কলকাতায় ফিরে আসারও কথা রয়েছে।