
কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডিম ছুড়তে এলেন সুদূর দিল্লি থেকে। কিন্তু ছোড়া হল না, আক্ষেপ দিল্লিবাসী উদিতা দাসের। একা নয়, একেবারে স্বামীকে নিয়ে চলে এসেছিলেন ভবানীভবনের সামনে। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে কালীঘাট, কালীঘাট থেকে ভবানীভবন, সর্বত্রই কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ছিলেন অভিষেক। এমনকী কোনওরকম বিশৃঙ্খলা এড়াতে ভবানীভবনের সামনেও পুলিশের তরফে নিরাপত্তার বহর কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়ছিল। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও ডিম শেষ পর্যন্ত ডিম ছুড়তে না পেরে আক্ষেপ উদিতা দেবীর।
খানিক আক্ষেপের সুরেই উদিতা দেবী বললেন, “আমি তো এমনিতে দিল্লিতে থাকি। শুধু অভিষেককে ডিম ছুড়ব বলে এখানে এসেছিলাম। অভিষেকের জন্য পচা ডিম নিয়ে আসতে চেয়েছিলাম। পাইনি। পচা ডিমের এখন দাম বেশি। অনেক্ষণ থেকে অপেক্ষা করছিলাম আমি আর আমার স্বামী। কিন্তু মিস হয়ে গেল!” এরপরেই তাঁর সংযোজন, “ও যা চুরি করেছে তাতে সবাই ডিম ছুঁড়ছে। দেখে আমার ইচ্ছা হয়েছিল ডিম ছুঁড়তে। কিন্তু এত বডি গার্ড নিয়ে এসেছে ছুঁড়তে পারলাম। হেরে যাওয়ার পরেও তো মনে হচ্ছে রোয়াব কমেনি।”
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই সোনারপুরের দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে উত্তেজিত জনতা ‘ডিম থেরাপি’ দিয়েছিল অভিষেক। শুনতে হয়েছিল চোর চোর স্লোগান। যাকে ঘিরে তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল বঙ্গ রাজনীতির আঙিনা। সোজা হাসপাতালে ছুটতে হয়েছিল অভিষেককে। যদিও ডাক্তাররা দেখে বলেছিলেন ভর্তির প্রয়োজন নেই। শেষে স্যালাইনের বোতল হাতে বাড়িতেই ফিরে আসেন অভিষেক। এদিকে সই জালিয়াতি কাণ্ডে এর আগে তিন তিনবার অভিষেককে তলব করেছিল সিআইডি। কিন্তু প্রতিবারই হাজিরা এড়ান। শেষে জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। এদিনই হাইকোর্ট ১৪ দিনের রক্ষাকবচ দিলেও হাজিরা যে অভিষেককে দিতেই হবে তা সাফ জানিয়ে দেয়। তারপরই এদিন দিল্লি থেকে ফিরে সোজা বাড়ি ঘুরে ভবানীভবনে চলে যান অভিষেক।