
কলকাতা: পাখির চোখ লোকসভা নির্বাচন। তার আগে রবিবাসরীয় ব্রিগেড থেকে বাংলার ৪২ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করে দিল তৃণমূল। সাম্প্রতিক অতীতে যখন তৃণমূলের অন্দরের নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে তুমুল কাটাছেঁড়া হয়েছে, যখন বার বার নবীন-প্রবীণ সংঘাত বেআব্রু হয়েছে, তখন এই প্রার্থীতালিকা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূল নেতৃত্ব বার বার স্পষ্ট করে দিয়েছে, নতুন চাল-পুরনো চাল দুইই দরকার। আজকের প্রার্থীতালিকাতেও সেই নবীন-প্রবীণ ভারসাম্যের ছবিই ধরা পড়ল।
একদিকে যেমন পচাত্তর বছর বয়সি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, ছিয়াত্তর বছর বয়সি সৌগত রায়, সাতষট্টি বছর বয়সি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো পোড় খাওয়া, অভিজ্ঞ, বর্ষীয়ান রাজনীতিকদের ফের একবার বেছে নেওয়া হয়েছে সংসদীয় রাজনীতিতে দলের ব্যাটন সামলানোর জন্য। অন্যদিকে আবার সাতাশ বছরের দেবাংশু ভট্টাচার্য, বছর একত্রিশ সায়নী ঘোষদের মতো দলের নতুন প্রজন্মকেও সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে লোকসভা ভোটে লড়াইয়ের জন্য। পঞ্চায়েত ভোটে নিজের লড়াকু মনোভাবে দলীয় নেতৃত্বের মন জয় করা সুজাতা মণ্ডলও এবার প্রার্থী হয়েছেন লোকসভায়। ভোট ময়দানে এখনও পর্যন্ত অপরীক্ষিত ছোট পর্দার ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এবারের লোকসভা ভোটে প্রার্থী করেছেন মমতা।
সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কাছে উত্তর কলকাতার রাজনীতি হাতের তালুর মতো চেনা। দমদম লোকসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সৌগত রায়ের জন্য। আবার শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতিক ও আইনি অভিজ্ঞতাও তৃণমূলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই তাঁদের উপর ফের একবার ভরসা রাখল তৃণমূল, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের। পাশাপাশি লোকসভার সংসদীয় রাজনীতিতেও তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নতুনদের চলার পথে দিশা দেখাবে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তমলুক থেকে তৃণমূলের প্রার্থী, দলের তরুণ নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য বলছেন, ‘বিরুদ্ধে যেই থাকুক না কেন, অসুবিধার কোনও কারণ নেই। দল আমাকে এই সুযোগ দিয়েছে, এর জন্য আমি দলের কাছে কৃতজ্ঞ।’ সামনে যে ‘বড় লড়াই’ রয়েছে সে কথা মানলেও অ্যাড্রিনালিনের কোনও খামতি নেই তৃণমূলের যুব নেতার মনে।
অন্যদিকে আবার দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবারও জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। এবারও তাঁকে উত্তর কলকাতা থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। সুদীপবাবু বলছেন, ‘আমি কলকাতা শহরে ৯ বার জিতেছি। চার বার বিধায়ক, পাঁচ বার সাংসদ। নতুন করে কিছু বলার নেই। প্রার্থী হয়েছি, লড়ব।’